কলম্বিয়ায় জন্ম নেওয়া জুলিয়ান কিনিওনেস বিশ্বকাপের মঞ্চে গোল করে ইতিহাস গড়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এস্তাদিও আজতেকায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে মাত্র ৯ মিনিটেই মেক্সিকোর হয়ে প্রথম গোল করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে জয় পায় মেক্সিকো।
এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম কলম্বিয়ান-জন্ম ফুটবলার হিসেবে অন্য কোনো দেশের হয়ে গোল করার বিরল কীর্তি গড়েন কিনিওনেস। ম্যাচের পর থেকেই তাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কলম্বিয়ার মাগুই পায়ানে জন্ম নেওয়া কিনিওনেস ২০১৬ সালে টাইগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর মেক্সিকোতেই নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। ২০২১ সালে অ্যাটলাসে যোগ দিয়ে ক্লাবটির দীর্ঘ ৭০ বছরের শিরোপাখরা কাটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার অবদানে ২০২১ সালের অ্যাপারচুরা এবং ২০২২ সালের ক্লাউসুরা শিরোপা জেতে অ্যাটলাস।
২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সময় তিনি শুধু মেক্সিকান পাসপোর্টধারীই ছিলেন না, বরং জাতীয় দলের প্রতিষ্ঠিত সদস্য হিসেবেই মাঠে নামেন। তবে মেক্সিকোর হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক কখনো পুরোপুরি থামেনি।
কলম্বিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রামোন জেসুরুন জানিয়েছেন, কিনিওনেসকে জাতীয় দলে ফেরাতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। জাতীয় দলের কোচ ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগও করেছিলেন এবং শুরুতে ইতিবাচক সাড়াও পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিনিওনেস মেক্সিকোর হয়েই খেলার সিদ্ধান্ত নেন।
মেক্সিকোর জয়ের পরদিন কিনিওনেসের চাচা জেফারসন কিনিওনেস বলেন, বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়া ছিল তার ভাতিজার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে, আর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করা গোলটি সেই অর্জনকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে।
এর আগে স্বাভাবিকীকরণের মাধ্যমে পাওয়া ফরোয়ার্ড গিয়ের্মো ফ্রাঙ্কো ও রোজেলিও ফুনেস মোরিকে খেলিয়েছিল মেক্সিকো। তবে তাদের কেউ বিশ্বকাপে গোল করতে পারেননি। কিনিওনেস মাত্র ৯ মিনিটেই সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখিয়েছেন।
