৯০ মিনিট ধরে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ যেন একাই রুখে দিয়েছিলেন স্পেনের আক্রমণের পর আক্রমণ। তার অবিশ্বাস্য সব সেভে বারবার হতাশ হয়েছে লা রোহা, আর ১০ জনের আর্জেন্টিনাও বাঁচিয়ে রেখেছিল টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন। কিন্তু ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে শেষ হাসি হেসেছে স্পেনই। নির্ধারিত সময় গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।
ম্যাচজুড়ে বলের দখল, আক্রমণ ও সুযোগ সৃষ্টিতে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল স্পেনের। তবে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে লড়াইয়ে রাখেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১০টি সেভ করে তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসেও নতুন রেকর্ড গড়েন।
তবে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার মাত্র ৩৭ সেকেন্ড পরই ম্যাচের ভাগ্য বদলে যায়। ডান প্রান্ত দিয়ে পেদ্রো পোরোর নিখুঁত ক্রস দূরের পোস্টে খেলায় রাখেন নিকো উইলিয়ামস। ফিরতি বল বক্সের ভেতর থেকে জোরালো শটে জালে পাঠিয়ে স্পেনকে এগিয়ে দেন ফেরান তোরেস। সেই এক গোলই গড়ে দেয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নের ব্যবধান।
এর আগে নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে পাও কুবার্সির ওপর বেপরোয়া ট্যাকল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনসো ফার্নান্দেজ। ফলে অতিরিক্ত সময়ের পুরোটা ১০ জন নিয়েই খেলতে হয় লিওনেল স্কালোনির দলকে।
একজন কম নিয়েও শেষ পর্যন্ত লড়াই চালায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। ম্যাচের ১১৭ মিনিটে লিওনেল মেসির ব্লক হওয়া শটই ছিল আর্জেন্টিনার প্রথম উল্লেখযোগ্য আক্রমণ।
১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে দেয় স্পেন। শেষ বাঁশি বাজতেই নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামজুড়ে শুরু হয় লাল জার্সিধারীদের উল্লাস। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে শিরোপা জিতে ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় লিখল স্পেন।
