নোয়াখালীর সেনবাগে মাদকসেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কথিত মাদক কারবারিদের হামলায় আরাফাত হোসেন ফাহিম (১৫) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর প্রধান অভিযুক্ত হারুন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১০ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের দেবীসিংহপুর গ্রামের আঞ্জু মিয়াজী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ফাহিম বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর গ্রামের মো. শাহজাহান সাজুর ছেলে। সে পৌর হাজীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। ঈদের ছুটিতে সে সেনবাগে তার নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল।
নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফাহিমের নানার বাড়ির উঠান ও আশপাশ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় হারুন মিয়া ও তার সহযোগীরা মাদক বিক্রি ও সেবন করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় বাড়ির পাশেই মাদকসেবনের সময় পরিবারের সদস্যরা তাদের বাধা দেন। একপর্যায়ে ধাওয়া করলে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
অভিযোগ রয়েছে, এর জের ধরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে হারুন, মমিন ও জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ির সদস্যদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও মারধর করে আহত করে। এ সময় গুরুতর আহত হয় ফাহিম।
স্বজনরা তাকে দ্রুত নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত পৌনে ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিতে সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে প্রধান অভিযুক্ত হারুন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, মাদকসেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
