মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৬
No menu items!
বাড়িলিড নিউজবৈশাখে কৃষকের নতুন দিগন্ত: ‘কৃষক কার্ড’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈশাখে কৃষকের নতুন দিগন্ত: ‘কৃষক কার্ড’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শাহ আলম, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় দেশের কৃষকদের জন্য বহুল প্রত্যাশিত ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। পহেলা বৈশাখের শুভক্ষণে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় ১৫ জন কৃষক-কৃষাণীর হাতে কৃষক কার্ড ও গাছের চারা তুলে দেন। একই সঙ্গে তিনি শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে কৃষি মেলার উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে টাঙ্গাইলে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যেখানে দলীয় নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
প্রথম ধাপে ২১ হাজার কৃষকের অন্তর্ভুক্তি
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় প্রায় ২১ হাজার ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের একটি সমন্বিত জাতীয় ডাটাবেজ তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে সরাসরি সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে সহজ ও স্বচ্ছ করবে।

কৃষক কার্ডে মিলবে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, কার্ডধারী কৃষকরা পাবেন—
সরাসরি সরকারি ভর্তুকি ও নগদ প্রণোদনা
ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও উন্নতমানের কীটনাশক
সহজ শর্তে স্বল্প সুদের কৃষিঋণ
প্রথমবারের মতো ‘শস্য ও কৃষি বীমা’ সুবিধা
ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা
সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে সরাসরি পণ্য বিক্রির সুযোগ
আধুনিক কৃষিযন্ত্রপাতি ব্যবহারে সহায়তা
উন্নত কৃষি প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণ
মোবাইলের মাধ্যমে আবহাওয়া ও রোগবালাই সংক্রান্ত পূর্বাভাস
সোনালী ব্যাংক এর মাধ্যমে সরাসরি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

কৃষি খাতে টেকসই উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা
বিশ্লেষকদের মতে, ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম দেশের কৃষি ব্যবস্থাপনায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর ফলে প্রান্তিক কৃষকরা সরাসরি রাষ্ট্রীয় সহায়তার আওতায় আসবেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের কৃষিখাত আরও টেকসই ও শক্তিশালী হবে—যা সামগ্রিকভাবে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Notify of
guest
0 Comments
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
আরো দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ