গাজীপুরের শ্রীপুরে ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি যানবাহনে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
শুক্রবার (২২ মে) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের শ্রীপুর-বরমী আঞ্চলিক সড়কের গারারন এলাকায় আরবালা ফ্যাক্টরির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার ঝুট নামানো ও ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার সকালে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষ চলাকালে আরবালা ফ্যাক্টরির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা স্টাফ বহনকারী কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শ্রীপুর-বরমী সড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বরমী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব আক্তারুজ্জামান শামীম মোল্লা অভিযোগ করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শ্রীপুর সফরকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা চলাকালে মাসুম আহমেদের লোকজন হামলা চালায়। এতে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সদস্য জুনাইদ মোল্লাসহ চারজন আহত হন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মাসুম আহমেদ আগে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে তার অনুসারীরা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা মাসুম আহমেদ বলেন, তিনি ওই এলাকায় বাস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার দাবি, কয়েক মাস আগে শামীম মোল্লা তার কাছে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। টাকা দাবি সংক্রান্ত ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি মীমাংসা হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার সকালে তার তিনটি বাসে ভাঙচুর চালানো হয়।
ঘটনাস্থলে থাকা গাড়িচালক জসিম বলেন, গাড়ি রেখে সামনে যাওয়ার পর ফিরে এসে দেখেন গাড়ির চাকার বাতাস ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পরে কয়েকজন ব্যক্তি গাড়িতে ভাঙচুর চালায়।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, আহত ১০ থেকে ১২ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
