২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট পেশ করবেন। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।
গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম বাজেট। একই সঙ্গে এটি দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে এগিয়ে নেওয়াকে এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। অবশিষ্ট অর্থ ঋণ ও বৈদেশিক সহায়তা থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
বাজেটে উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলের জন্য ২২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) সহায়তায় ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণাও আসতে পারে বলে জানা গেছে।
সামাজিক সুরক্ষা খাতে থাকছে নতুন কিছু উদ্যোগ। এর মধ্যে ২৫ লাখ নাগরিকের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ নতুন কয়েকটি কর্মসূচি যুক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যমান কর্মসূচিগুলোর বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।
বিদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী কয়েক বছরে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রেখে উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী অর্থবছরে দেশের জিডিপির আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যবসা পরিচালনা সহজ করাকে এবারের বাজেটের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে ধরা হয়েছে। এ লক্ষ্যে লাইসেন্স, অনুমোদন ও কর ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি ‘বাংলাবিজ’ নামে একটি সমন্বিত ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবসাসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এক জায়গা থেকেই পাওয়া যাবে বলে আশা করছে সরকার। :::
