জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ১৯৭৬ সালে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় কবির জানাজার পর তাঁর লাশবাহী খাটিয়া কাঁধে বহনকারীদের মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অন্যতম ছিলেন।
শনিবার (২৩ মে) বিকেলে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয়ভাবে আয়োজিত নজরুল জন্মজয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দুই দশক ধরে ত্রিশালে জাতীয়ভাবে নজরুল জন্মজয়ন্তী পালন করতে পেরে সরকার গৌরব বোধ করছে। ১৯৭৯ সালের ২৫ মে জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ঢাকার ফার্মগেট থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবির মাজার পর্যন্ত আয়োজিত র্যালিতেও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অংশ নিয়েছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এর মাধ্যমে জাতীয় কবির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। তারেক রহমান বলেন, “কাউকে সম্মান জানালে নিজের সম্মান নষ্ট হয় না। বরং বিনয় মানুষকে মহিমান্বিত করে। আমরা এই কালজয়ী আদর্শ থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণেই সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয় দৃশ্যমান হচ্ছে।”
জাতীয় কবির জীবন ও কর্ম বিশ্বদরবারে আরও বেশি ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে নজরুলের জীবনদর্শন পৌঁছে দিতে হবে। এ লক্ষ্যে ত্রিশালকে ‘নজরুল স্মৃতি’ হিসেবে ঘোষণা করা যায় কি না, সে বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও পর্যটন বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে রাজধানীর মিরপুরে শিশু রামিসা হত্যার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকার কোনো ধরনের শিশু বা নারী নির্যাতন মেনে নেবে না। রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি আগামী এক মাসের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে এবং সেই সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড।”
তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ পুনর্জাগরণ জরুরি। এক্ষেত্রে কবি নজরুলের জীবন ও কর্ম বর্তমান প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনে শুধু মানুষের অধিকার ও রাষ্ট্রীয় সম্পদই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধেও অবক্ষয় নেমে এসেছে। অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
