গাজীপুরের শ্রীপুরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে পূর্ণ বেতন, দীর্ঘ ছুটি ও কর্মকর্তাদের ছাঁটাইসহ কয়েক দফা দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষে কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কেওয়া পশ্চিম খণ্ড বহেরারচালা এলাকায় অবস্থিত মিতালী গ্রুপের কেএসএস গার্মেন্টস কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।
শ্রমিকরা জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১১ দিনের ছুটি, চলতি মে মাসের পূর্ণ বেতন, ওভারটাইম বিল পরিশোধ এবং কয়েকজন কর্মকর্তার অপসারণসহ চার দফা দাবিতে তারা আন্দোলন করছিলেন। বুধবার কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে শ্রমিকরা কাজে ফিরলেও বৃহস্পতিবার সকালে কারখানায় এসে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
কারখানাটির সুইং সেকশনের শ্রমিক সাফায়েত বলেন, “বুধবার বিকেলে কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবি বিবেচনার আশ্বাস দিলে আমরা কাজে যোগ দিই। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে এসে দেখি কারখানার সামনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।”
আরেক নারী শ্রমিক আরিফা অভিযোগ করেন, কাজে যোগ দিতে গেলে শ্রমিকদের বাধা দেওয়া হয়। এতে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার থেকেই শ্রমিকরা ১১ দিনের ঈদ ছুটি, পূর্ণ বেতন ও শুক্রবার কারখানা বন্ধ ঘোষণার দাবিতে আন্দোলন করছিলেন। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলেও বৃহস্পতিবার সকালে আবার উত্তেজনা দেখা দেয়।
কেএসএস নিট কম্পোজিট লিমিটেড মিতালী গ্রুপের অন্যতম বৃহৎ নিট কম্পোজিট কারখানা। এখানে প্রায় ৩ হাজার শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, “শ্রমিকদের দাবি ছিল মে মাসের পূর্ণ বেতন পরিশোধ করা। তবে মালিকপক্ষ ২০ দিনের বেতন দিতে সম্মত হয়। এরই মধ্যে শ্রমিকদের বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া শ্রমিকরা কিছু কর্মকর্তা ছাঁটাই ও ছুটিসহ কয়েক দফা দাবিতে আন্দোলন করছিলেন।”
তবে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
