বাড়িঅর্থনীতিপ্রস্তাবিত বাজেটে বাড়ছে যেসব পণ্যের দাম

প্রস্তাবিত বাজেটে বাড়ছে যেসব পণ্যের দাম

আজ ১১ জুন, বৃহস্পতিবার। অতীতের ঋণনির্ভর প্রবৃদ্ধির ধারা থেকে বেরিয়ে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও বেসরকারি বিনিয়োগকেন্দ্রিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে জাতীয় সংসদে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মেগা বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা, জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার উৎসাহিত করতে বেশ কয়েকটি পণ্যের ওপর শুল্ক ও কর বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে এসব পণ্যের আমদানি ব্যয় ও বাজারমূল্য বাড়তে পারে।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, যেসব পণ্যের দাম বাড়বে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- কাজুবাদাম, আমদানিকৃত পাঙাশ ফিলেট, সিগারেট, নিকোটিন পাউচ, হিটেড টোব্যাকো, ১২০০ থেকে ১৬০০ সিসি ক্ষমতার পেট্রোল ও ডিজেল চালিত গাড়ি, আমদানিকৃত ওয়াশিং মেশিন, জিপসাম বোর্ড ও শিট, কপার টিউব ও কপারের তার, কোল্ড-রোল্ড কয়েল ও শিট, পিভিসি ও পিইটি রেজিন, মেইজ স্টার্চ, পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার এবং বিভিন্ন শিল্পপণ্য।

কাজুবাদাম ও আমদানিকৃত মাছের দাম বাড়তে পারে

প্রস্তাবিত বাজেটে অপ্রক্রিয়াজাত কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ এবং প্রক্রিয়াজাত কাজুবাদামের শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে বাজারে আমদানিনির্ভর কাজুবাদামের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

একই সঙ্গে দেশীয় মৎস্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পকে সুরক্ষা দিতে আমদানিকৃত পাঙাশ মাছের ফিলেটের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে পড়তে পারে।

তামাকজাত পণ্যে বাড়তি কর

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে সব স্তরের সিগারেটের ন্যূনতম খুচরা মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি নিকোটিন পাউচের ওপর ৪০ শতাংশ এবং হিটেড টোব্যাকো পণ্যের ওপর ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গাড়ির সিসি অনুযায়ী কর বাড়বে

পরিবেশ দূষণ কমানোর লক্ষ্যে ১২০০ থেকে ১৬০০ সিসি ক্ষমতার পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ির ওপর মোট করভার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ করভার বাড়িয়ে ১৫৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে নতুন গাড়ির দাম বৃদ্ধি পেতে পারে।

গৃহস্থালি ও নির্মাণসামগ্রীও হবে ব্যয়বহুল

দেশীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষা দিতে আমদানিকৃত ওয়াশিং মেশিনের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। একইভাবে জিপসাম বোর্ড ও জিপসাম শিট আমদানির ওপর ২০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে, যা নির্মাণ খাতের ব্যয় বাড়াতে পারে।

শিল্পের কাঁচামালে শুল্ক বৃদ্ধি

বাজেটে কপার টিউবের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি কপারের তার এবং কোল্ড-রোল্ড কয়েল ও শিট আমদানির ওপর অতিরিক্ত রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং শিল্পে ব্যবহৃত পিভিসি এবং পিইটি রেজিনের আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট শিল্পে উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে।

Notify of
0 Comments
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
আরো দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ