জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে শস্যভাণ্ডারখ্যাত সিরাজগঞ্জের চলনবিল এলাকায় বোরো চাষ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। চাহিদামতো ডিজেল না পাওয়ায় সেচ পাম্প চালানো যাচ্ছে না, ফলে ফসল উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার চলনবিল এলাকায় চলতি মৌসুমে ৮টি ইউনিয়নে ২২ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এই বিশাল আবাদ নির্ভর করছে প্রায় ৭ হাজার ১১টি ডিজেলচালিত সেচ পাম্পের ওপর। তবে জ্বালানি সংকটের কারণে এসব পাম্প সচল রাখা এখন কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চলনবিলের মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়নের কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তিনি ৩৪ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছেন এবং তার তিনটি ডিজেলচালিত সেচ পাম্প রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে সপ্তাহে তিন দিন সেচ দিতে হয়, যেখানে প্রতিদিন প্রায় ২৫ লিটার ডিজেল লাগে। কিন্তু বর্তমানে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ১০ লিটার তেল পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “পাম্পে ৯৬ টাকা লিটার দরে ডিজেল কিনেছি, কিন্তু চাহিদা মেটাতে বাইরে থেকে ১৩০ টাকা লিটার দরে কিনতে হয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে।”একই এলাকার মনোহরপুর গ্রামের কৃষক রাকিব হোসেন বলেন, তিনি ২৬ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। নিয়মিত সেচের প্রয়োজন হলেও ডিজেল সংকটে তার তিনটি সেচ পাম্প বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। বর্তমানে তিনি উপজেলা কৃষি অফিসে তেলের কার্ডের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠ সেন গুপ্তা জানান, ইতোমধ্যে চলনবিলের কিছু এলাকায় বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫ বিঘা জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে এবং বাকি জমির ধান কাটতে আরও প্রায় ১৫ দিন সময় লাগবে।তিনি বলেন, “কৃষকদের সুবিধার্থে তেলের কার্ড চালু করা হয়েছে। কার্ড নিয়ে পেট্রোল পাম্পে গেলে তারা নির্ধারিত পরিমাণ ডিজেল পাবেন। তবে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি সংকটের কারণে কিছু সমস্যা হচ্ছে, যা সমাধানে প্রশাসনের সঙ্গে কাজ চলছে।” সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা বলেন, “প্রকৃত কৃষকদের কাছে যেন ডিজেল পৌঁছে যায়, সে জন্য কার্ড ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে এবং পাম্পগুলোতে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। আশা করছি, বোরো আবাদে বড় কোনো ক্ষতি হবে না।” এদিকে, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে চলনবিলের বোরো উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
