টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল ফ্রান্স। শুক্রবার (১০ জুলাই) ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করেছে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে স্পেন ও বেলজিয়ামের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দল।
ম্যাচের প্রথমার্ধে গোল না হলেও পুরো সময়জুড়ে আধিপত্য ছিল ফ্রান্সের। বিরতির আগে তারা ১৩টি শট নেয়, যেখানে মরক্কো নিতে পারে মাত্র একটি।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পের দূরপাল্লার শট এবং দায়ো উপামেকানোর হেড দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। ২৫তম মিনিটে এমবাপ্পেকে বক্সের মধ্যে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। তবে এমবাপ্পের নেওয়া স্পটকিক ঠেকিয়ে দলকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করেন বুনু। পরে দেজিরে দুয়ের শট এবং যোগ করা সময়ে লুকাস দিনের জোরালো প্রচেষ্টাও ব্যর্থ করে দেন তিনি। দিনের শটটি আবার ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
বিরতির পরও আক্রমণের ধার অব্যাহত রাখে ফ্রান্স। ম্যাচের ৬০তম মিনিটে দেজিরে দুয়ের বাড়ানো পাস থেকে ডান পায়ের দুর্দান্ত বাঁকানো শটে জালের দেখা পান এমবাপ্পে। এবারের বিশ্বকাপে এটি তার অষ্টম গোল। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের দুটি আসরে অন্তত আটটি করে গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়েন ফরাসি অধিনায়ক।
গোলের কয়েক মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উসমান দেম্বেলে। দারুণ এক দলীয় আক্রমণ থেকে বল পেয়ে পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে গোল করে ফ্রান্সের জয় অনেকটাই নিশ্চিত করেন ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা।
শেষদিকে মরক্কো ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও সফল হতে পারেনি। ৮৩তম মিনিটে আজেদ্দিন উনাহির শক্তিশালী শট এক হাতে ফিরিয়ে দেন ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মেনিয়াঁ। এরপর কর্নার থেকে নিল এল আইনাউইয়ের হেড সাইডনেটে লাগলে ব্যবধান আর কমানো সম্ভব হয়নি।
ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে গোড়ালিতে সামান্য চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন এমবাপ্পে। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন জ্যঁ-ফিলিপ মাতেতা। তবে ম্যাচ শেষে ফরাসি অধিনায়ক জানান, তার চোট গুরুতর নয়।
এমবাপ্পে বলেন, “আমার গোড়ালিতে সামান্য চোট আছে, তবে আমি পুরোপুরি ভালো আছি। শেষ সময়ে মাতেতা খেলার জন্য বেশি প্রস্তুত ছিল, তাই তাকে নামানো হয়েছে। এর বেশি কিছু নয়।”
অন্যদিকে জয় শেষে ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম বলেন, “আমরা ভালোভাবে বিশ্রাম নেব, তারপর দেখব আমাদের প্রতিপক্ষ কে হয়। ফ্রান্সে এখন অনেক উচ্ছ্বাস রয়েছে। তবে আমরা নিজেদের কাজেই মনোযোগী। খেলোয়াড়দের লক্ষ্য যতদূর সম্ভব এগিয়ে যাওয়া। আমরা একটি বড় বাধা পেরিয়ে এসেছি।”
এই জয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন আরও এক ধাপ এগিয়ে নিল ফ্রান্স।
