অতিরিক্ত সময়ে জুলিয়ান আলভারেজের দুর্দান্ত গোলের পর লাউতারো মার্টিনেজের শেষ মুহূর্তের নিশ্চিত করা গোলে ১০ জনের সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শেষ চারে লিওনেল স্কালোনির দলের প্রতিপক্ষ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড।
রবিবার (১২ জুলাই) সকালে কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১০ মিনিটেই লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নার থেকে হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় সুইজারল্যান্ড। ৬৭তম মিনিটে রিকার্ডো রদ্রিগেজের বাড়ানো বল থেকে দান এনদোয়ে গোল করে সমতা ফেরান। তবে পাঁচ মিনিট পরই বড় ধাক্কা খায় সুইসরা। প্রথমার্ধে একটি হলুদ কার্ড দেখা ব্রিল এমবোলো সিমুলেশনের অভিযোগে ভিএআর পর্যালোচনার পর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড।
নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। দীর্ঘ সময় প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে না পারলেও ১১২তম মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজের দুর্দান্ত বাঁকানো শটে আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। এরপর ম্যাচের শেষ দিকে লাউতারো মার্টিনেজ গোল করে ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে টানা ১২ ম্যাচ অপরাজিত থাকল আর্জেন্টিনা। একই সঙ্গে ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যেও আরেক ধাপ এগিয়ে গেল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এদিন প্রথম গোলের অ্যাসিস্ট করে ছয়টি বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির মোট অ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০। যদিও গোল করতে না পারায় তিনি ৮ গোল নিয়ে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন।
সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। শনিবার (১১ জুলাই) নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করেছে থমাস টুখেলের দল। আগামী বুধবার আটলান্টায় মুখোমুখি হবে ফুটবল বিশ্বের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত লড়াই। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল ও অবিস্মরণীয় একক প্রচেষ্টার গোল, ১৯৯৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার টাইব্রেকার জয় এবং ২০০২ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের প্রতিশোধ—সব মিলিয়ে নতুন আরেকটি ঐতিহাসিক লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।
