বাড়িখেলাধুলাপেনাল্টি মিসের হতাশা কাটিয়ে শেষ ১২ মিনিটে তিন গোল; মিসরকে হারিয়ে শেষ...

পেনাল্টি মিসের হতাশা কাটিয়ে শেষ ১২ মিনিটে তিন গোল; মিসরকে হারিয়ে শেষ আটে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা

বিশ্বকাপের মঞ্চে আরেকটি রূপকথার প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত লড়াইয়ে মিসরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নাটকীয় এই জয়ের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি অধিনায়ক লিওনেল মেসি। শেষ বাঁশি বাজতেই সতীর্থদের আলিঙ্গনে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ছিল আর্জেন্টিনার নিয়ন্ত্রণে। তবে আক্রমণে ধার না থাকায় সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ১৫ মিনিটে কর্নার থেকে ইয়াসের ইব্রাহিমের শক্তিশালী হেডে এগিয়ে যায় মিসর।
চার মিনিট পর সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু অধিনায়ক মেসির নেওয়া স্পট কিক দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের।
পেনাল্টি মিসের মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ডেও নাম লেখান মেসি। টেলিভিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, টাইব্রেকার বাদে বিশ্বকাপের একই আসরে দুটি পেনাল্টি মিস করা ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় তিনি। প্রথমার্ধে ম্যাক অ্যালিস্টার, হুলিয়ান আলভারেজ ও মেসির আরও কয়েকটি নিশ্চিত সুযোগ রুখে দিয়ে মিসরের রক্ষণভাগের প্রধান ভরসায় পরিণত হন শোবের।
বিরতির পরও নিজেদের ছন্দ ধরে রাখে মিসর। ৬২ মিনিটে মোহাম্মদ সালাহর নিখুঁত থ্রু থেকে হাইসেম হাসানের পাস পেয়ে দারুণ এক কাউন্টার অ্যাটাকের সমাপ্তি টেনে ব্যবধান ২-০ করেন মোস্তফা জিকো। পরে মিসর আরও একবার বল জালে জড়ালেও ভিএআরের সহায়তায় লিসান্দ্রো মার্তিনেজের ওপর ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করেন রেফারি।
ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত সবকিছুই ছিল মিসরের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু এরপরই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র।
৭৯ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে মেসির নিখুঁত ক্রসে শক্তিশালী হেডে ব্যবধান কমান ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। চার মিনিট পর বক্সের ভেতরের জটলায় বল পেয়ে শট নেন মেসি। গোলরক্ষকের হাত ছুঁয়ে বল ক্রসবারে লেগে জালে জড়ালে ২-২ সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা।
এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বাঁ দিক থেকে বদলি খেলোয়াড় লাওতারো মার্তিনেজের নিখুঁত ক্রসে দৃষ্টিনন্দন হেডে জয়সূচক গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
যোগ করা সময়ের ১২তম মিনিটে শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো স্টেডিয়াম। অসম্ভবকে সম্ভব করা এই প্রত্যাবর্তনের পর কান্নায় ভেঙে পড়েন লিওনেল মেসি। শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন বাঁচিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে আরও একবার নিজেদের লড়াকু মানসিকতার প্রমাণ দিল আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের তালিকায় জায়গা করে নিল এই ম্যাচ।

 

 

Notify of
0 Comments
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
আরো দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ