পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে দীপেন দেওয়ানের অব্যাহতির প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি কর্মসূচি পালন করেছেন পার্বত্যবাসী।
রোববার (৭ জুন) সকালে খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবের সামনে ‘সুশীল সমাজ ও সর্বস্তরের জনগণ, খাগড়াছড়ি’ ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে অংশগ্রহণকারীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
চাইথোয়াই মারমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সমাজসেবক ধীমান খীসা, ডা. আশুতোষ চাকমা, ব্যবসায়ী চৌধুরী মো. বেলাল, শিক্ষার্থী মৌনুচিং মারমা ও প্রজ্ঞা জ্যোতি চাকমা, শিক্ষাবিদ নবকুমার চাকমা এবং নারী নেত্রী নমিতা চাকমাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন, বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া দীপেন দেওয়ান পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের আস্থাভাজন নেতা হিসেবে পরিচিত। পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, তাকে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আহ্বানে বিচার বিভাগীয় চাকরি ছেড়ে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন দীপেন দেওয়ান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দল ও জনগণের জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে আসছেন। তাই তাকে মন্ত্রীর দায়িত্বে পুনর্বহালের দাবি জানান তারা।
উল্লেখ্য, গত ১ জুন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। একই দিন সরকার তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া দীপেন দেওয়ান ২০০৫ সালে জেলা যুগ্ম জজের চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন।
মন্ত্রিত্ব থেকে তার অব্যাহতির বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি তার সমর্থকরা। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। তবে পদত্যাগের বিষয়ে গণমাধ্যমে সরাসরি কোনো বক্তব্য না দিলেও গত ৩ জুন নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি পার্বত্যবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির রাজনীতি করেছেন, ভবিষ্যতেও করবেন এবং বিএনপিই তার শেষ ঠিকানা।
