বিশ্বকাপ অভিযান জয় দিয়ে শুরু করতে পারল না ব্রাজিল। গ্রুপ ‘সি’-এর প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। পিছিয়ে পড়ার পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত গোলে সমতায় ফিরলেও শেষ পর্যন্ত পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিতে পারেনি কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।
শনিবার নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে নিউইয়র্ক/নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল উপহার দেয় মরক্কো। ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা দ্রুত পাল্টা আক্রমণ ও মাঝমাঠে আধিপত্য বিস্তার করে ব্রাজিলকে চাপে রাখে।
ম্যাচের ২১ মিনিটে সেই চাপের ফলও পেয়ে যায় আফ্রিকান প্রতিনিধিরা। ব্রাহিম দিয়াসের নিখুঁত থ্রু বল ধরে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ ভেঙে এগিয়ে যান ইসমাইল সাইবারি। ঠান্ডা মাথার ফিনিশে বল জালে জড়িয়ে মরক্কোকে এগিয়ে দেন তিনি।
গোল হজমের পরও প্রথমার্ধে ছন্দহীন ছিল ব্রাজিল। নেইমারহীন আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া ও ইগর থিয়াগোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট ছিল। মাঝমাঠ থেকেও তেমন কার্যকর আক্রমণ তৈরি করতে পারেনি দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
তবে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ম্যাচে ফেরেন ভিনিসিয়ুস। ৩২ মিনিটে বাম দিক থেকে ভেতরে ঢুকে ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে মরক্কোর গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। তার দৃষ্টিনন্দন গোলেই সমতায় ফেরে ব্রাজিল।
বিরতির পর কয়েকটি পরিবর্তন এনে দলকে আরও আক্রমণাত্মক করার চেষ্টা করেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। বল দখল ও প্রেসিংয়ে এগিয়ে গেলেও মরক্কোর সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি ব্রাজিল। নিচু রক্ষণাত্মক ব্লকে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রতিহত করতে থাকে মরক্কো।
ম্যাচের শেষ দিকে এক পয়েন্ট ধরে রাখার কৌশলেই খেলে আফ্রিকান দলটি। সংগঠিত রক্ষণ এবং সময়মতো চাপ প্রয়োগ করে ব্রাজিলকে দ্বিতীয় গোল থেকে বঞ্চিত রাখে তারা। ফলে শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয় ম্যাচ।
এই ড্র ব্রাজিলের জন্য কিছুটা হতাশার। কাগজে-কলমে ফেভারিট হলেও মাঠের খেলায় মরক্কো প্রমাণ করেছে, ২০২২ বিশ্বকাপের সাফল্য কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। অন্যদিকে নেইমারহীন ব্রাজিলের আক্রমণ, মাঝমাঠের সৃজনশীলতা ও রক্ষণভাগের দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্বকাপ মিশনের শুরুতে তাই জয় নয়, সতর্কবার্তাই পেল আনচেলত্তির ব্রাজিল।
