বাড়িআন্তর্জাতিকনিজেদের অপরাধ নিজেরাই তদন্ত করবে’ নেতানিয়াহুর প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা

নিজেদের অপরাধ নিজেরাই তদন্ত করবে’ নেতানিয়াহুর প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-এর বিরুদ্ধে তেল আবিবে বিক্ষোভ করেছেন শত শত মানুষ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা প্রতিরোধে সরকারের ব্যর্থতার বিষয়ে রাষ্ট্রীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন না করার প্রতিবাদে শনিবার শহরের হাবিমা চত্বরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভে বক্তারা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, হামলার পেছনের ব্যর্থতা, নিরাপত্তা ঘাটতি ও রাজনৈতিক দায় নির্ধারণে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন হামাসের হাতে নিহত ও জিম্মি হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনরাও। তাদের মধ্যে ছিলেন আয়ালা মেটজগার, যার ৮০ বছর বয়সী শ্বশুর ইয়োরামকে ৭ অক্টোবর গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে বন্দীদশায় তিনি নিহত হন।
আয়ালা বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হামলার দিন ঘিরে মানুষের প্রশ্ন আরও বাড়ছে। তাঁর মতে, একটি বিধিবদ্ধ তদন্ত কমিটিই ইসরায়েলের সর্বোচ্চ তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ, যেখানে প্রধান বিচারপতির মনোনীত স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহুর প্রস্তাবিত তদন্ত কমিটিতে সদস্য নির্বাচন করবেন রাজনীতিবিদরাই। এতে ক্ষমতাসীন জোট ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আয়ালার ভাষায়, “যে ঘটনার জন্য ক্ষমতাসীনরা নিজেরাই দায়ী, তারাই আবার তদন্তের দায়িত্ব নিতে চায়।”
বিক্ষোভে বক্তব্য দেন ৭ অক্টোবরের হামলায় নিহত ২৬ বছর বয়সী তরুণী ওরিয়ার বাবা এরান লিটম্যানও। আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও সংঘাতের বলি হয়েছেন তাঁর মেয়ে। সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাঁর ভেতরের ক্ষত ও ক্ষোভ এখনও প্রশমিত হয়নি।
তবে একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, নিহতদের মরদেহ উদ্ধারে কাজ করা জাকা সেবা সংস্থার স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। তাঁদের সাহসিকতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, এসব স্বেচ্ছাসেবক কোনো কমান্ডো সেনার চেয়ে কম বীর নন।
সমাবেশ চলাকালে এক পর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সরকারপন্থী কর্মী হাদার মাচতার বিক্ষোভের ভিডিও ধারণ করতে গেলে সরকারবিরোধী এক ইনফ্লুয়েন্সারের সঙ্গে তাঁর বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে এবং পরে দুজনকেই ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর থেকে ওই দিনের নিরাপত্তা ব্যর্থতা নিয়ে ইসরায়েলে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। বিরোধী দল, নিহতদের পরিবার এবং নাগরিক সমাজের একটি বড় অংশ স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে।
তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

Notify of
0 Comments
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
আরো দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ