চলমান সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চূড়ান্ত চুক্তির ‘একেবারে কাছাকাছি’ পৌঁছেছে বলে দাবি করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi। শুক্রবার (১২ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পোস্টে আরাগচি বলেন, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের এত কাছাকাছি আমরা এর আগে কখনোই পৌঁছাইনি।’ তাঁর এই মন্তব্যকে দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্প্রতি ইরানি গণমাধ্যমে সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া ও বিভিন্ন শর্তাবলি ফাঁস হওয়ার পর উভয় দেশেই আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে আরাগচি বলেন, চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে এর শর্তাবলি নিয়ে আগাম জল্পনা-কল্পনা বা অনুমান করা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ নীতির অংশ হিসেবে উপযুক্ত সময়ে চুক্তির সব শর্ত ও বিস্তারিত তথ্য জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে।”
এদিকে গত কয়েক দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে। এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই পর্দার আড়ালে চলা আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে।
চুক্তি সংক্রান্ত তথ্য ফাঁসের ঘটনায় এর আগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, ইরানি গণমাধ্যমে যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তার সঙ্গে আলোচনায় লিখিতভাবে সম্মত হওয়া শর্তগুলোর কোনো মিল নেই।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কেই নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে
