বাড়িআন্তর্জাতিকইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরও চুক্তির পক্ষে ট্রাম্প, নেতানিয়াহুকে দিলেন সংযমের বার্তা

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরও চুক্তির পক্ষে ট্রাম্প, নেতানিয়াহুকে দিলেন সংযমের বার্তা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেও ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে নিজের অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি চুক্তি মেনে নেওয়া ছাড়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সামনে অন্য কোনো বিকল্প নেই।

রোববার (৭ জুন) রাতে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকা অবস্থায় ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। এর পরপরই ট্রাম্প এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো তিনিই নিচ্ছেন এবং ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের চুক্তিই করুক না কেন, নেতানিয়াহুকে তা মেনে নিতে হবে।
ট্রাম্প বলেন, “আমি সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। তিনি (নেতানিয়াহু) সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেউ নন।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, ইরানের সাম্প্রতিক হামলা কোনোভাবেই চুক্তি করার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করবে না। বরং তিনি তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “তোমরা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছ, এবার তা বন্ধ কর। আলোচনায় ফিরে আসো এবং একটি চুক্তি কর।”
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করে ইরানে পাল্টা হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাবেন।
তার ভাষায়, “ইসরায়েল নিজেদের মতো করে হামলা চালিয়েছে এবং ইরানও জবাব দিয়েছে। এখন আর নতুন করে হামলার প্রয়োজন নেই।”
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইসরায়েলও প্রতিশোধমূলক হামলার পথে হাঁটবে না। তবে পাল্টা হামলা হলে এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে স্থানীয় সময় রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইসরায়েলের উদ্দেশে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানায়, উত্তর ইসরায়েলের হাইফা শহরের কাছে অবস্থিত রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। তাদের দাবি, দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলার জবাব হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আইআরজিসি আরও বলেছে, লেবাননের বিরুদ্ধে আগ্রাসন ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব দিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মোহসিন রেজায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, “আজকের জবাব ছিল শুধু একটি সতর্কবার্তা। আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে পরবর্তী আঘাত আরও ব্যাপক হবে এবং এর মূল্য চড়া হবে।”
অন্যদিকে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন গিভর কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “তেহরানকে জ্বালিয়ে দেওয়া হবে।”
সাম্প্রতিক এ পাল্টাপাল্টি হুমকি ও সামরিক তৎপরতায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি শান্ত রাখতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জানাচ্ছে।

 

Notify of
0 Comments
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
আরো দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ