বৃহস্পতিবার, মে ৭, ২০২৬
No menu items!
বাড়িআন্তর্জাতিকআমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতার পথে ইরান!

আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতার পথে ইরান!

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষরের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে একাধিক আঞ্চলিক সূত্র ও মার্কিন কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, মাত্র এক পাতার একটি খসড়া প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে বর্তমানে আলোচনা চলছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করা এবং পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি, জব্দ ইরানি অর্থ ফেরত এবং হরমুজ প্রণালি-এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো জটিল বিষয়গুলোর সমাধানে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা।

এই পুরো শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছে। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে ইতিবাচক বার্তা পেয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্রগুলোর দাবি, তেহরান আপস-মীমাংসার দিকেই এগোচ্ছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের সঙ্গে “খুব ভালো আলোচনা” হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এবার কঠিন ইস্যুগুলো পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে আপাতত যুদ্ধবিরতির ভিত্তি শক্ত করার কৌশল নিয়েছেন, যাতে ইরানের মধ্যপন্থী অংশ আলোচনায় সক্রিয় থাকতে পারে।

প্রস্তাবিত চুক্তিতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমে ১০ বছরের বেশি সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি তেহরানকে তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দেশের বাইরে সরিয়ে নিতে হবে।

ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ওই ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে হবে এবং ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো বন্ধ রাখতে হবে। তবে এই শর্ত নিয়ে ইরানের ভেতরে তীব্র মতবিরোধ রয়েছে। অতীতেও একই ইস্যুতে আলোচনা ভেঙে গিয়েছিল।

শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে পরিচালিত উদ্ধার অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িক স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান চুক্তিতে সম্মত না হলে পুনরায় আরও বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানো হতে পারে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, মার্কিন প্রস্তাবটি বর্তমানে তেহরান গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত খুব শিগগিরই পাকিস্তানের মাধ্যমে জানানো হবে। বৃহস্পতিবারের মধ্যেই ইরান তাদের জবাব দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে, মার্কিন প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তাই এই বিষয়ে কিছুটা সন্দিহান, কারণ অতীতেও একদম শেষ মুহূর্তে ইরান পিছিয়ে যাওয়ার নজির রয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফার আলোচনার প্রস্তুতি নিলেও ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। বর্তমানে নতুন এই এক পাতার পরিকল্পনা সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে দুই দেশকে শান্তির পথে ফিরিয়ে আনতে পারে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব।

তথ্যসূত্র: ইউরো নিউজ

Notify of
guest
0 Comments
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
আরো দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ