বাড়িআন্তর্জাতিকট্রাম্পকে ইরানে সামরিক পদক্ষেপে লাগাম টানতে সিনেটে বিল পাস, ভেটোর শঙ্কা রয়ে...

ট্রাম্পকে ইরানে সামরিক পদক্ষেপে লাগাম টানতে সিনেটে বিল পাস, ভেটোর শঙ্কা রয়ে গেছে

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে একটি বিল পাস হয়েছে। বিলটিতে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক অভিযান চালানোর আগে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে অথবা বিদ্যমান সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৩ জুন) সিনেটে ৫০-৪৮ ভোটে বিলটি পাস হয়। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে প্রতিনিধি পরিষদে ২১৫-২০৮ ভোটে বিলটি অনুমোদিত হয়েছিল। পরে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সেটি সিনেটে পাঠানো হয়।
সিনেটে রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও দলটির চার সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিলের পক্ষে ভোট দেন। তারা হলেন লুইজিয়ানার বিল ক্যাসিদি, আলাস্কার লিসা মুরকোওস্কি, মেইনের সুসান কলিন্স এবং কেন্টাকির র্যান্ড পল। এছাড়া রিপাবলিকান সিনেটর মিচ ম্যাককনেল ও ডেভ ম্যাককরমিক ভোটদানে বিরত থাকেন।
অন্যদিকে পেনসিলভেনিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান বিলটির বিপক্ষে অবস্থান নেন।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, সিনেটে পাস হলেও এই বিল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ পুরোপুরি ঠেকাতে পারবে— এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এতে ভেটো দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে বিলটি কার্যকর রাখতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে।
ভোটাভুটির পর সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের নেতা চাক শুমার বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে আনতে এটি ছিল সিনেটে দশম প্রচেষ্টা। অবশেষে ‘যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত’ প্রস্তাবটি পাস হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের কথা বললেও শেষ পর্যন্ত তিনি এমন এক সংঘাতের পথে গেছেন, যা মার্কিন জনগণের জন্য বিভ্রান্তি, অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রেসিডেন্টরা একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলছে। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র : এএফপি

Notify of
0 Comments
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
আরো দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ