গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে গভীর রাতে টিন কেটে প্রবেশ করে চেয়ার, টেবিল, ফ্যানসহ বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের ছবি ভাঙচুর এবং ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। সোমবার (২৯ জুন) দিবাগত রাতে সংঘটিত এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে এলাকাবাসী মাওনা ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের পেছনের অংশের টিন কাটা অবস্থায় দেখতে পান। পরে কার্যালয়ের ভেতরে গিয়ে চেয়ার, টেবিল, ফ্যানসহ বিভিন্ন আসবাবপত্রের কিছু অংশ অনুপস্থিত দেখতে পান তারা। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাওনা ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা শহীদের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি গভীর রাতে বিএনপির কার্যালয়ে প্রবেশ করে বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নেয়। এছাড়া গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুর, ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা এবং প্রায় ২৫টি চেয়ার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন বলেন, “রাস্তার পাশের একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের টিন কেটে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
আরেক বাসিন্দা ইব্রাহিম খলিল বলেন, “এ ধরনের ঘটনা রাজনৈতিক সহাবস্থানের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা শহীদের ভাই মজিবুর রহমান বলেন, “চেয়ার-টেবিল সবই রয়েছে। সবকিছু নেওয়া হয়নি। পার্টি অফিসের কিছু মালামাল পাশের আরেকটি ঘরে সরিয়ে রাখা হয়েছে।” গভীর রাতে এমন কাজ কেন করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটি তার সুবিধামতো করা হয়েছে। বিষয়টি সে নিজেই ভালো বলতে পারবে।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শহীদের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, মাওনা ইউনিয়ন বিএনপির একাধিক নেতা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
