কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সঙ্গে দেখা দিয়েছে তীব্র পানি সংকট। ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কোথাও কোথাও মধ্যরাতেও পানির জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে নারী-পুরুষকে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে ঝড়ের আঘাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা ভেঙে পড়ে বৈদ্যুতিক লাইনের ওপর। এতে একাধিক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার মধ্যে রাত পর্যন্তও অনেক স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হয়নি।
সরেজমিনে গাজীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ধনুয়া নতুন বাজার ও ডিবিএল গার্মেন্টস এলাকার সামনে দেখা যায়, পানির জন্য দীর্ঘ সারি। গভীর রাতেও মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে পানি সংগ্রহ করছেন। শিশু ও নারীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় মোটরচালিত পানির পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। এতে হঠাৎ করেই তীব্র সংকটে পড়েছে পুরো এলাকা। অনেকেই বাধ্য হয়ে দূর থেকে পানি সংগ্রহ করছেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান জেনারেটরের মাধ্যমে পানি সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক জায়গায় তা নিয়মিত চালানো যাচ্ছে না। নয়নপুর এলাকার ডিবিএল সিরামিক কারখানার সামনেও একই চিত্র দেখা গেছে—পানির জন্য মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষা।
পানি নিতে আসা কয়েকজন নারী বলেন, “সারাদিন পানি পাইনি। রাতে এসে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। পরিবারের জন্য পানি জোগাড় করা এখন বড় কষ্টের হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
এদিকে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২, মাওনা জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে একাধিক স্থানে বৈদ্যুতিক লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জনবল সংকটের কারণে সব এলাকায় একযোগে মেরামত কাজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
জোনাল অফিসের ডিজিএম শান্তনু রায় বলেন, “ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কাজ চলছে। সীমিত জনবল নিয়ে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছি।”
ভুক্তভোগীরা দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, বিদ্যুৎ না ফিরলে পানি সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠবে।
