দেশের অভ্যন্তরে ভারী বৃষ্টিপাত এবং সীমান্তবর্তী ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অব্যাহত বৃষ্টির প্রভাবে বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চারটি নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বৃষ্টিপাত বাড়ায় দেশের অধিকাংশ নদ-নদীর পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বুধবার (১৭ জুন) পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ পূর্বাভাস দিয়েছে।
পাউবো জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানির সমতল আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) থেকে আরও বাড়তে পারে। এ সময় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার এসব নদী সতর্কসীমায় প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে নদী দুটির পানি বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটারের মধ্যে অবস্থান করছে।
অন্যদিকে সোমেশ্বরী ও ভুগাই নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। আগামী তিন দিন এ দুই নদীর পানির সমতল আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে পাউবো। এ সময় নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
পাউবোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি নদী স্টেশনের মধ্যে ৮০টিতে পানির সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপরীতে ৪৩টি স্টেশনে পানি কমেছে এবং চারটি স্টেশনে পানির স্তর অপরিবর্তিত রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। তাই নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
