আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড (এপিএসসিএল) স্থাপিত আশুগঞ্জ ৪৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল (নর্থ) বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পুনর্নির্ধারিত লেভেলাইজড ট্যারিফ অনুযায়ী বিদ্যুৎ কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। নতুন ট্যারিফ কার্যকর হলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) বছরে প্রায় ২৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা সাশ্রয় হবে।
বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) আর্থিক সহায়তায় আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করে। ২০১৭ সালে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা কেন্দ্রটি ২৫ বছর মেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, বিদ্যমান প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় ৫ টাকা ৪ পয়সার পরিবর্তে পুনর্নির্ধারিত লেভেলাইজড ট্যারিফ ৫ টাকা ৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে অধিকতর গতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিপিডিবির পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের আলোকে এ ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নতুন ট্যারিফ কার্যকর হলে বিপিডিবির বছরে প্রায় ২৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির অবশিষ্ট ১৬ বছর ১০ মাস ১০ দিনের মেয়াদে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিপরীতে মোট ২২ হাজার ৬১৮ কোটি ১২ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। ফলে বিদ্যুৎ বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত মুনাফা শেষ পর্যন্ত সরকারের লভ্যাংশ হিসেবেই বিবেচিত হবে।
