বাড়িজাতীয়শিশুর পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধে আজ জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন

শিশুর পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধে আজ জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন

সারাদেশে আজ রোববার একযোগে শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলমান এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ ৩৬ হাজার ২২ শিশুকে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বয়সভেদে দুই ধরনের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে নীল রঙের (১ লাখ আইইউ) এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে লাল রঙের (২ লাখ আইইউ) ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সারাদেশে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্র এবং বাস টার্মিনাল, ফেরিঘাটসহ বিভিন্ন জনাকীর্ণ স্থানে স্থাপিত ৫০০টি অস্থায়ী কেন্দ্রের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নে নিয়োজিত রয়েছেন।
তবে দেশের ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডের দুর্গম এলাকায় মূল ক্যাম্পেইনের পরবর্তী চার দিন ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে, যাতে কোনো শিশু ভিটামিন ‘এ’ সেবার বাইরে না থাকে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, শিশুদের সুস্থ বিকাশ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অপুষ্টিজনিত মৃত্যুঝুঁকি কমাতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অভিভাবকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিকটস্থ কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার সকালে রাজধানীর শাহবাগে আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন। এ সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও মাঠপর্যায়ে তদারকির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া থেকে সুরক্ষা এবং শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’ হিসেবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে এর নামকরণ করা হয় ‘জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন’ এবং ২০১১ সালে এটি জাতীয় পুষ্টিসেবা কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
— সূত্র: বাসস

Notify of
0 Comments
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
আরো দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ