রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডকে ‘থাই পাহাড়ের মতো ভারী’ বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
রোববার (৭ জুন) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, রামিসা হত্যা মামলার মূল আসামি সোহেল ও তার সহযোগী স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। মাও সেতুং বলেছিলেন, কোনো কোনো মৃত্যু থাই পাহাড়ের মতো ভারী, কোনো কোনো মৃত্যু পাখির পালকের মতো হালকা। রামিসা হত্যাকাণ্ড আমাদের জীবনে থাই পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে আছে।”
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, “এই আসামিদের ফাঁসি কার্যকর করতে পারলে সেটি জাতির কাছে পাখির পালকের মতো হালকা মনে হবে। এটাই ছিল জাতির কাছে আমাদের প্রতিশ্রুতি।”
রামিসার বাবার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন, রামিসার বাবা বিচার চান না—এ বিষয়ে কী বলব? আমরা বলেছিলাম, একমাত্র জবাব হবে তার আস্থা ফিরিয়ে দেওয়া। আজ রামিসার বাবা বলেছেন, তিনি এই বিচারে সন্তুষ্ট। আমরা তার আস্থার জায়গা ফিরিয়ে দিতে পেরেছি।”
মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, গত ১৯ মে পল্লবীর নৃশংস ঘটনার মাত্র আট ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এরপর দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে ২৪ মে চার্জশিট দাখিল করা হয় এবং একই দিন তা ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, “১ জুন চার্জ গঠন, ২ জুন ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, ৩ জুন আসামিপক্ষের সাক্ষ্য, ৪ জুন যুক্তিতর্ক এবং ৭ জুন রায় ঘোষণা করা হয়। আদালত ৪১ মিনিট ধরে আদেশ পাঠ করেন এবং দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।”
আইনমন্ত্রী জানান, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এমনকি আদালতের ছুটির মধ্যেও বিচার কার্যক্রম সচল রাখতে প্রধান বিচারপতির সহযোগিতা নেওয়া হয় এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোকে ছুটির আওতার বাইরে রাখা হয়।
বক্তব্যের একপর্যায়ে সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে আইনমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, “সরকারের বিশেষ তদারকিতে তদন্ত ও বিচার দ্রুত শেষ করতে যা যা প্রয়োজন ছিল, সবই করা হয়েছে।”
