শনিবার, নভেম্বর ২৯, ২০২৫
No menu items!
বাড়িকৃষি ও প্রকৃতিঢাকায় ঝুঁকিপূর্ণ  ২১ লাখ ভবন: বড় ভূমিকম্পে ধসে পড়তে পারে ৮ লাখের...

ঢাকায় ঝুঁকিপূর্ণ  ২১ লাখ ভবন: বড় ভূমিকম্পে ধসে পড়তে পারে ৮ লাখের বেশি ভবন

রাজধানী ঢাকার অধিকাংশ ভবনই ইমারত নির্মাণবিধি বা বিল্ডিং কোড না মেনে তৈরি হওয়ায় বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে নগরবাসী। সাম্প্রতিক কয়েকটি অনুভূত ভূমিকম্পের পর ভবনগুলোর দুরবস্থার চিত্র নতুন করে সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী কম্পনে রাজধানীতে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে।

রাজউকের পরিসংখ্যান বলছে, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন ১ হাজার ৫২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় প্রায় ২২ লাখ ভবনের মধ্যে ২১ লাখই দুর্বল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এসব ভবনের অধিকাংশেই মানা হয়নি বিল্ডিং কোড, নকশা অনুমোদনের নিয়ম। পুরোনো নকশায় নির্মিত অসংখ্য ভবনও রয়েছে তালিকায়। এমনকি সরকারি উদ্যোগে নির্মিত নতুন ভবনের ৩৭ শতাংশকেও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে রাজউকের সাম্প্রতিক জরিপ।

রাজউকের তথ্যমতে, রাজধানীর ৭৪ শতাংশ ভবনই নকশাবহির্ভূতভাবে নির্মিত। ভবন ভাঙার নির্দেশনা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এরই মাঝে সেফটি অ্যাওয়্যারনেস ফাউন্ডেশনের সেমিনারে জানানো হয়—ঢাকায় বর্তমানে ২১ লাখ ৪৬ হাজার ভবন ভূমিকম্পে গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে, যেগুলো যে কোনো সময়ে ‘মৃত্যুপুরী’তে পরিণত হতে পারে।

গত ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্পের পর নতুন করে আরও ৩০০ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করার কথা জানিয়েছেন রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম। তার মতে, নকশাবহির্ভূত নির্মাণের দায় রাজউক ও ভবনমালিক উভয়ের হলেও মূল দায় মালিকদের।

রাজউকের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার মো. ওয়াহিদ সাদিক তার গবেষণায় মধুপুর ফাটলরেখায় ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পের সম্ভাব্য ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন। তার বিশ্লেষণ মতে, এমন একটি ভূমিকম্প হলে ঢাকার মোট ভবনের ৪০ শতাংশের বেশি—প্রায় ৮ লাখ ৬৪ হাজার ভবন—সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়তে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবীর জানান, ঢাকা থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে মধুপুর এলাকায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টির মতো সক্রিয় ফল্ট রয়েছে। এমন কম্পন হলে বিশেষ করে রাজধানীর নতুন ভরাট করা অঞ্চলে ধস, দেবে যাওয়া ও ব্যাপক প্রাণহানির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক শরিফ জামিল মনে করেন, সম্ভাব্য বড় বিপর্যয়ের জন্য ভূমিকম্প নয়, বরং মানুষের অব্যবস্থাপনাই বেশি দায়ী। তিনি বলেন, বহুদিন ধরে জলাভূমি রক্ষার আন্দোলন চললেও ঠিক সেই এলাকাগুলোতেই সবচেয়ে বেশি দখল ও ভরাট হয়েছে। তাই বড় ভূমিকম্প হলে সর্বাধিক ক্ষতি হবে অনিয়ন্ত্রিত ভরাট অঞ্চল ও অপরিকল্পিত নির্মাণ করা এলাকাগুলোতে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন—বিধিনিষেধ মানা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন পুনর্গঠন ছাড়া রাজধানীর আগামী বড় ভূমিকম্প ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।

Notify of
guest
0 Comments
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
আরো দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ