ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) দীর্ঘ আট বছর পর সমাবর্তনের আয়োজন করা হচ্ছে। নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল জানিয়েছেন, সরকারের সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করে শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে।
রোববার (৭ জুন) ডুয়েট কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান। উপাচার্য বলেন, সর্বশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৮ সালে। দীর্ঘ বিরতির পর শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত সমাবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা সন্তানের মতো। তারা দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাতা। শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক হবে নিবিড় ও শ্রদ্ধার।”
অধ্যাপক ইকবাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান লক্ষ্য হবে মানসম্মত শিক্ষা ও শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারণে কাজ করা হবে।
তিনি জানান, বিশেষায়িত এ প্রতিষ্ঠানকে আধুনিক, মানসম্মত ও আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। ডুয়েটকে আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ মে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল ডুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে ১৪ মে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
ডুয়েটে যোগদানের আগে তিনি সিলেটের নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রায় ৩৪ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, অ্যাপ্লায়েড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগের প্রধান, পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মিনারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান এবং সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০১৮ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরি ও’কনর প্রসেস সেফটি সেন্টারে ভিজিটিং রিসার্চ স্কলার হিসেবে কাজ করেন।
শিক্ষাজীবনে অধ্যাপক ইকবাল ভারতের শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর ইউনিভার্সিটি কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর এবং আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
আরগোনোমিক্স অ্যান্ড হিউম্যান ফ্যাক্টরস ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্যাল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও এনভায়রনমেন্ট বিষয়ক গবেষণায় তার রয়েছে সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা। দেশি-বিদেশি পিয়ার-রিভিউড জার্নালে তার ৩৫টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি ৯০টিরও বেশি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেছেন।
গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস ম্যানেজমেন্ট (আইইওএম) সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল’-এর ‘ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর অ্যান্ড লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
