পড়াশোনার পাশাপাশি ইউটিউব দেখে শখের বসে আঙুর চাষ শুরু করেছিলেন তরুণ শিক্ষার্থী কাজী রিফাত খান। সেই শখই এখন রূপ নিয়েছে সম্ভাবনাময় উদ্যোগে। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের পূর্বপাড়া গ্রামের এই তরুণ ইতোমধ্যে বাণিজ্যিকভাবে বাইকুনুর জাতের আঙুর চাষে সফলতার আশা দেখাচ্ছেন।
শ্রীপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রিফাত জানান, ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার উথুরা এলাকায় একটি আঙুর বাগান পরিদর্শনে গিয়ে তার আগ্রহের সূচনা। এরপর ইউটিউবের বিভিন্ন ভিডিও দেখে পরিকল্পনা করে বাড়ির পাশে ১৬ শতাংশ জমিতে শুরু করেন আঙুর বাগান।
প্রথমে ১০০টি চারা রোপণ করলেও ২০-২৫টি নষ্ট হয়ে যায়। পরে আবার চারা সংগ্রহ করে বর্তমানে তার বাগানে ৯৫টি গাছ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০-২৫টি গাছে ইতোমধ্যে থোকায় থোকায় আঙুর ধরেছে। বাগানে চার জাতের প্রায় শতাধিক গাছ রয়েছে এবং আর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফল বিক্রির উপযোগী হবে বলে আশা করছেন তিনি।
রিফাত বলেন, “শখ থেকেই শুরু করেছিলাম। ইউটিউব দেখে বাইকুনুর জাতের আঙুর চাষে আগ্রহ পাই। শুরুতে অনেকেই সন্দেহ করলেও এখন গাছে ফল দেখে সবাই উৎসাহ দিচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকা, পোকামাকড় ও পাখির আক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা আঙুর চাষের বড় চ্যালেঞ্জ। ভবিষ্যতে আরও ২-৩ বিঘা জমিতে আঙুর চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে তার।
শুধু রিফাত নন, শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকজন উদ্যোক্তা আঙুর চাষে এগিয়ে এসেছেন। তেলিহাটি ইউনিয়নের আবদার গ্রামের এক কৃষি উদ্যোক্তা ৫ শতাংশ জমিতে ৫০টি বাইকুনুর জাতের আঙুর গাছ লাগিয়েছেন। একইভাবে রাজাবাড়ী ইউনিয়নের চিনাশুকানিয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. আবুল হাসেম মোড়ল এক বিঘা জমিতে বিদেশি চার জাতের আঙুর চাষ করে ভালো ফলনের আশা করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আঙুর গাছ রোপণের মাত্র আট মাসের মধ্যেই ফলন আসায় উদ্যোক্তাদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। পাখির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে বাগানে জাল ব্যবহার করা হচ্ছে।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, “শ্রীপুরের মাটিতে আঙুর চাষ করে তরুণরা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।”
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের কৃষির প্রতি আগ্রহী করে তুলছে। সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে শ্রীপুরে আঙুর চাষ বাণিজ্যিকভাবে বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
