গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে ঘরবাড়ি, ফসল ও বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় ঘরের চালা ধসে সিরাজুল ইসলাম (৭২) নামে এক সিলিং ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিকভাবে ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। মুহূর্তেই তা ভয়াবহ রূপ নেয়। বজ্রসহ ভারী বৃষ্টি ও বড় আকারের শিলাবৃষ্টিতে প্রায় আধাঘণ্টার তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ে জনজীবন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কাঁচা ঘরবাড়ির টিনের চালা উড়ে যায় এবং গাছপালা উপড়ে পড়ে।
নিহত সিরাজুল ইসলাম টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার কুনরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ি গ্রামের ছাতিরবাজার এলাকায় ভাড়া থেকে ছেলে শাহিনকে নিয়ে বাঁশের সিলিং তৈরির কাজ করতেন। ঘটনার রাতে দোকানের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ঝড়ে চালা ধসে পড়লে তিনি চাপা পড়েন। সকালে স্থানীয়রা তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আকস্মিক এই ঝড়ে উপজেলার অন্তত দুই শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক কাঁচা ঘরবাড়ির চালা উড়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে গাছ ভেঙে বাড়িঘরের ওপর পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাওনা বাজার ও আশপাশের এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে।
কৃষকরা জানান, শিলাবৃষ্টিতে ধান, ভুট্টা, সবজি, আম ও কাঁঠালসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ধানক্ষেতের এ সময়ের ক্ষতি নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগে রয়েছেন।
এদিকে ঝড়ে বৈদ্যুতিক লাইনের চার শতাধিক পয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে এবং পানির সংকট দেখা দেয়।
মাওনা উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা সজীব মৃধা বলেন, ঝড়ের তীব্রতায় তার ঘরের চালা উড়ে গেছে। তেলিহাটি, মাওনা ও শ্রীপুর পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকেও গাছ পড়ে বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
শ্রীপুর থানার পরিদর্শক সঞ্চয় সাহা জানান, এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২, মাওনা জোনাল অফিসের ডিজিএম শান্তনু রায় জানান, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত লাইনের মেরামত কাজ ভোর থেকেই শুরু হয়েছে এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
হঠাৎ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
