দেশের ২৪টি জেলায় আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল বুধবারের তুলনায় আজ শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়া জেলার সংখ্যা কিছুটা কমলেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের তীব্রতা এখনো বিদ্যমান। রাজধানীতেও তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ ধরনের শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে এবং মাসের মধ্যভাগ পর্যন্ত এর বিস্তৃতি কম-বেশি হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানান, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের সব জেলায় শৈত্যপ্রবাহ চলছে। এছাড়া গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিসহ মোট ২৪টি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
গতকাল দেশের ৪৪টি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ছিল। সে সময় নওগাঁর বদলগাছীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন ছিল।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, ৮.১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মৃদু, ৬.১ থেকে ৮ ডিগ্রি হলে মাঝারি, ৪.১ থেকে ৬ ডিগ্রি হলে তীব্র এবং ৪ ডিগ্রির নিচে হলে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়।
উত্তরের প্রান্তিক জেলা পঞ্চগড়ে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। শীতের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ ও পশুপাখি চরম কষ্টে রয়েছে।
পঞ্চগড়ে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ভোর ৬টায় ছিল ৯.৫ ডিগ্রি। বুধবার সকালে তাপমাত্রা ছিল ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
স্থানীয় বাসিন্দা ও চা-শ্রমিকরা জানান, কুয়াশা ও ঠান্ডার কারণে কাজ করতে কষ্ট হচ্ছে। অনেক মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। নারীরা গৃহস্থালী কাজেও সমস্যায় পড়ছেন এবং কৃষকেরা বীজতলার চারা স্বাভাবিকভাবে না বাড়ায় উদ্বিগ্ন।
শীতের কারণে সর্দি, কাশি, জ্বর, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালে শিশু ও বয়োবৃদ্ধ রোগীর চাপ বেশি দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকেরা শীতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
