যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের মধ্যে প্রথম সরাসরি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কুয়েতে। দেশটির শুয়াইবা বন্দরে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর একটি অস্থায়ী অপারেশন সেন্টারে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলায় অন্তত ৬ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে সোমবার (২ মার্চ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড United States Central Command (সেন্টকম) জানায়, শুয়াইবা বন্দরে হামলার পর প্রথমে ৩ জন নিহতের খবর পাওয়া গেলেও নিখোঁজ দুই সেনাসহ আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬ জনে দাঁড়ায়।
প্রতিরক্ষাসচিব Pete Hegseth জানান, একটি সুরক্ষিত ‘ট্যাকটিক্যাল অপারেশন সেন্টার’-এ সরাসরি আঘাত হানে প্রজেক্টাইলটি। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনটি ভবনের মাঝখানে আঘাত করায় সেনারা সতর্ক হওয়ার বা বাংকারে আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ পাননি।
স্থানীয় সময় সকাল ৯টার কিছুক্ষণ পর ট্রিপল-ওয়াইড ট্রেলার ধরনের অস্থায়ী কার্যালয়ে বিস্ফোরণটি ঘটে। হামলার কয়েক ঘণ্টা পরও ভবনে আগুন জ্বলছিল এবং বিস্ফোরণের তীব্রতায় দেয়াল দুমড়ে-মুচড়ে যায়। স্যাটেলাইট চিত্রে বন্দরের একটি অংশ থেকে কালো ধোঁয়া ও আগুনের শিখা আকাশে উঠতে দেখা গেছে।
‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অধীনে শনিবার ভোরে শুরু হওয়া অভিযানের মধ্যে এটিই প্রথম মার্কিন প্রাণহানির ঘটনা। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় অন্তত ১৮ জন মার্কিন সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump এবং প্রতিরক্ষাসচিব হেগসেথ উভয়েই সতর্ক করে বলেছেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
যুগ্ম সেনাপ্রধানের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “তারা আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের ত্যাগ আমরা কখনোই ভুলব না।”
তবে নিহতদের নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি; পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের প্রক্রিয়া চলছে।
সূত্র: সিএনএন
