নতুন বছরে নতুন ভেন্যুতে গড়িয়েছে ভারতীয় ওপেন ব্যাডমিন্টন। তবে সেখানকার পরিবেশ নিয়েও অভিযোগের শেষ নেই। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ২০ নম্বরে থাকা ডেনমার্কের তারকা মিয়া ব্লিখফেল্ট ইন্দিরা গান্ধি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ দিয়েছেন। তবে একজন প্রতিযোগী বাদে বাকিরা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশংসা করেছেন বলে দাবি ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার (বিএআই) সচিব সঞ্জয় মিশ্র’র।
এর আগের বছরও ভারতে খেলতে এসে কন্ডিশন নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন ডেনিস ব্যাডমিন্টন তারকা ব্লিচফেল্ট। ‘ইন্ডিয়া ওপেন সুপার ৭৫০’ টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার পর সামাজিক মাধ্যমে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খেলা চ্যালেঞ্জিং জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আমি আশা করেছিলাম অন্যান্য হলের এটি তুলনামূলক ভালো হবে। কিন্তু খেলোয়াড়দের জন্য এখনও এখানে সেই নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি। যখন আমি গতকাল কোর্টে আসি, দেখি আশপাশে পাখি উড়ছে এবং পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন-এলোমেলো করে রেখেছে।’
ব্লিখফেল্টের অভিযোগ ঠান্ডা আবহাওয়ায় আয়োজকদের ব্যবস্থাপনা নিয়েও, যা নিয়ে অন্য শাটলাররাও নাকি বেশ উদ্বিগ্ন। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এবার দিল্লিতে ঠান্ডা অনেক বেশি, যা তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্তও নেমে যায় সকালে এবং রাতে শুরু হয় কনকনে বাতাস। চলতি বছরের আগস্টে টেনিসের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপস বসবে ভারতে। তারই পর্যবেক্ষণ হিসেবে কেডি যাদব হল থেকে চলমান ‘ইন্ডিয়া ওপেন সুপার ৭৫০’ টুর্নামেন্ট ইন্দিরা গান্ধি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে স্থানান্তরিত হয়েছে।
ডেনমার্কের শাটলার ব্লিখফেল্ট জানিয়েছেন, ‘সবাইকে দুই স্তরের প্যান্ট, জ্যাকেট, গ্লাভস আর টুপি পরে গরম হতে হচ্ছে। দ্রুতগতির খেলায় নামার আগে এটি মোটেও আদর্শ প্রস্তুতি নয়।’ এই পরিস্থিতিতে আয়োজক এবং ব্যাডমিন্টন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশনকে (বিডব্লিউএফ) হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি, ‘এটা একটি পেশাদার খেলা। এ ধরনের পরিবেশে অনেক ক্রীড়াবিদই খেলতে চাইবে না।’
কেবল ব্লিখফেল্ট–ই নন, কানাডা ও থাইল্যান্ডের সাবেক দুই তারকাও ঠান্ডা আবহাওয়ায় ওয়ার্ম-আপ করা নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। কানাডিয়ান শীর্ষ শাটলার মিশেল লিও নতুন স্টেডিয়াম নিয়ে বলেন, ‘ভেন্যুটি বেশ ঠান্ডা। এখানে ওয়ার্ম-আপ করা কঠিন। স্টেডিয়াম বড় হওয়ায় বাতাসের প্রবাহ বেশি এবং আগের ভেন্যুর তুলনায় ঠান্ডা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।’ একই উদ্বেগ প্রকাশ করেন থাইল্যান্ডের সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন রাচানক ইন্তাননও, ‘কোর্টে নামার আগে শরীর ভালোভাবে গরম রাখা দরকার। কিন্তু এখানে এখনও খুব ঠান্ডা। সেজন্য হিটার ব্যবহার করা যেতে পারে।’
এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার (বিএআই) সচিব সঞ্জয় মিশ্র। তিনি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’কে বলেছেন, ‘কেবল একজন খেলোয়াড়ের সমস্যা, যখন অন্যরা এখানকার সুযোগ-সুবিধার প্রশংসা করছেন। তার (ব্লিখফেল্ট) প্রতিদ্বন্দ্বী ভিক্টোর অ্যাক্সেলসেন প্রায় দশকজুড়ে এখানে খেলে একাধিকবার জিতেছেনও। আরামদায়ক পরিবেশ গড়তে আমরা হিটারও ব্যবহার করছি। যদিও আবহাওয়া আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। এখানে প্রতিযোগিতা স্থানান্তরের কারণ যেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের সময় কোনো সমস্যা না থাকে। যেকোনো ছোটখাটো সমস্যাই আমরা যত্নের সঙ্গে সমাধানের নিশ্চয়তা দিচ্ছি।’
তথ্য সূত্রঃ ঢাকা পোস্ট
