অসুস্থতা কাটিয়ে বুধবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের হয়ে মাঠে নামতে প্রস্তুত ডেকলান রাইস।
আর্সেনালের এই মিডফিল্ডার নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে বিরতির সময় বদলি হয়েছিলেন। পরে ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল জানান, ম্যাচের আগে টানা তিন দিন রাইস অসুস্থ হয়ে প্রায় পুরো সময় বিছানায় ছিলেন। তবে জানা গেছে, দলটি কানসাস সিটিতে ফিরে আসার পর তার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। মঙ্গলবার আটলান্টায় রওনা হওয়ার আগে শেষ অনুশীলনেও তিনি ভালো ছিলেন এবং সেমিফাইনালে এলিয়ট অ্যান্ডারসনের সঙ্গে মিডফিল্ডে শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
ইংল্যান্ড শিবিরে আরেকটি ফিটনেস দুশ্চিন্তা রয়েছে এজরি কনসাকে নিয়ে। নরওয়ের বিপক্ষে পায়ে টান লাগায় তাকে বদলি করা হয়েছিল। তবে অ্যাস্টন ভিলার এই ডিফেন্ডারও ডান-ব্যাকে শুরুর একাদশে থাকার লড়াইয়ে আছেন। এছাড়া চেলসির অধিনায়ক রিস জেমসকে আবারও প্রথম একাদশে ফেরানোর সম্ভাবনা রয়েছে। নরওয়ের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে ভালো করা বুকায়ো সাকাও শুরু থেকেই খেলতে পারেন।
এদিকে গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড বলেছেন, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। দুই দেশের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন তাদের মনোযোগ নষ্ট না করে, সে বিষয়েও সতর্ক তিনি।
পিকফোর্ড বলেন, ‘পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই আমরা শিরোপা জেতার ক্ষুধা দেখিয়েছি। অপ্রয়োজনীয় ঝামেলায় জড়াইনি। সিদ্ধান্ত আমাদের পক্ষে যাক বা না যাক, আমরা দ্রুত নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে আবার খেলায় মন দিই। এটাই আমাদের মানসিকতার পরিচয়। আমরা এসব বিষয় নিয়ে বাড়তি ভাবি না, ফুটবলই আমাদের হয়ে কথা বলুক।’
লিওনেল মেসির বিপক্ষে প্রথমবার মাঠে নামার সম্ভাবনা নিয়ে পিকফোর্ড বলেন,‘অবশেষে তার বিপক্ষে খেলতে পারব, এটা দারুণ অনুভূতি। ছোটবেলা থেকে তাকে দেখেছি। আমরা সবাই জানি মেসি কতটা অসাধারণ। তবে শুধু তাকে নয়, পুরো আর্জেন্টিনা দলকেই গুরুত্ব দিতে হবে।’
বুধবারের সেমিফাইনাল ঘিরে আটলান্টায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। দুই দেশের হাজারো সমর্থক ম্যাচটি দেখতে স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকবেন। অনেক আসনই আলাদা করে ভাগ করা না থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্ক রয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তবে পিকফোর্ড মনে করেন, ম্যাচের আবহে ভেসে গেলে চলবে না।
তিনি বলেন,‘এটি দুইটি আবেগপ্রবণ সমর্থকগোষ্ঠীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত একটি ফুটবল ম্যাচ। ফুটবলই মানুষ ও জাতিকে এক করে। ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা—দুই দেশই গর্বিত ফুটবল জাতি। পাশাপাশি স্পেন ও ফ্রান্সও বিশ্বের সেরা চার দলের মধ্যে রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য একটাই—আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠা।’
২০১৮ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলা এবং ২০২১ ও ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্সআপ হওয়া পিকফোর্ড এখনো ক্লাব কিংবা জাতীয় দলের হয়ে বড় কোনো শিরোপা জিততে পারেননি। তবে তিনি বলেছেন, ইংল্যান্ড এবার বিশ্বকাপ জিততে পারবে কি না, তা নিয়ে এখনই ভাবছেন না; আপাতত তার পুরো মনোযোগ সেমিফাইনালেই।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
