ইউরোপের মাটিতে প্রথমবার কোনো ইউরোপীয় দলের মুখোমুখি হয়ে স্মরণীয় এক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে দেশের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
শনিবার সেরাভালের সান মারিনো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। দুই অর্ধে একটি করে হেডে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে জামাল ভূঁইয়ার পরিবর্তে অধিনায়কের আর্মব্যান্ডও ওঠে তাঁর হাতে। নেতৃত্ব ও পারফরম্যান্স—দুই ভূমিকাতেই উজ্জ্বল ছিলেন তপু।
ফিফা র্যাংকিংয়ের তলানিতে থাকা সান মারিনো নিয়মিতই ইউরোপের বড় শক্তি জার্মানি, স্পেন, ইংল্যান্ড ও ইতালির বিপক্ষে খেলে থাকে। সে কারণে র্যাংকিংয়ের হিসাবের বাইরে গিয়েও এই জয় বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। কারণ, ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ এবং সেই ম্যাচেই এসেছে কাঙ্ক্ষিত জয়।
ম্যাচের শুরুতে কিছুটা চাপে ছিল বাংলাদেশ। বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচে ফিরে আসে থমাস ডুলির শিষ্যরা। ১৯ মিনিটে হামজা চৌধুরীর ফ্রি কিক থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে শেখ মোরসালিনের নিখুঁত ক্রস পেয়ে দুর্দান্ত হেডে দলকে এগিয়ে দেন তপু বর্মণ।
তবে বাংলাদেশের সেই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ৩৩ মিনিটে ফিলিপ্পো বেরার্দির কাটব্যাক থেকে নিকোলাস গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। গোলরক্ষক মিতুল মারমা বল স্পর্শ করলেও জাল রক্ষা করতে পারেননি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে সাদ উদ্দিনের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ এলেও তিনি তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। ফলে ১-১ সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে সামিত সোম, জায়ান আহমেদ ও সোহেল রানা জুনিয়রকে মাঠে নামিয়ে আক্রমণে নতুন গতি আনেন কোচ থমাস ডুলি। মাঝমাঠে বলের দখল ও আক্রমণের ধার বাড়তে থাকে বাংলাদেশের। এক পর্যায়ে ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে গোলবঞ্চিত হয় সফরকারীরা।
তবে শেষ মুহূর্তে এসে আসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে হামজা চৌধুরীর ফ্রি কিক থেকে বিশ্বনাথ ঘোষের নেওয়া ভলি বক্সে থাকা তপু বর্মণের মাথায় লেগে জালে জড়ায়। কিছুটা অপ্রত্যাশিত হলেও সেটিই হয়ে যায় বাংলাদেশের জয়সূচক গোল।
শেষ দিকে চার মিনিট অতিরিক্ত সময়ে সান মারিনো সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালায়। একবার মিতুল মারমার হাত ফসকে বল গোললাইনের দিকে গড়ালেও পুরোপুরি লাইন অতিক্রম না করায় রক্ষা পায় বাংলাদেশ। এরপর সতর্কতার সঙ্গে বাকি সময় পার করে জয় নিশ্চিত করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে প্রথম জয় পেল বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ইউরোপের মাটিতে দেশের ফুটবলের অন্যতম স্মরণীয় সাফল্যের সাক্ষী হয়ে থাকল সেরাভালের রাত।
