বিশ্ব ফুটবলের দুই ভিন্ন ধাঁচের দল ব্রাজিল ও জাপান আবারও নকআউট পর্বে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। ইতিহাসে মুখোমুখি লড়াইয়ে স্পষ্টভাবে এগিয়ে থাকলেও ব্রাজিলের জন্য জাপানের বিপক্ষে সর্বশেষ সাক্ষাতের স্মৃতি মোটেও সুখকর নয়।
সেই ম্যাচে অবিশ্বাস্য এক কামব্যাক করে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল জাপান। দুই গোলের লিড নিয়েও ম্যাচ হারায় ব্রাজিল, যা এখনও সেলেসাওদের জন্য হতাশার স্মৃতি হয়ে আছে।
বাংলাদেশ সময় সোমবার (২৯ জুন) রাত ১১টায় হিউস্টনে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। গ্রুপ ‘সি’ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে আসা ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্সআপ জাপান। এই ম্যাচের জয়ী দল কোয়ার্টার ফাইনালে আইভরি কোস্ট বা নরওয়ের মুখোমুখি হবে।
পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৮৯ সালে রিও ডি জেনেরিওতে প্রথম দেখায় ১-০ গোলে জেতে ব্রাজিল। এরপর এখন পর্যন্ত মোট ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। এর মধ্যে ব্রাজিল জয় পেয়েছে ১১ ম্যাচে, দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে এবং মাত্র একবার জয় পেয়েছে জাপান।
তবে সেই একমাত্র জয়ই এসেছে তাদের সর্বশেষ সাক্ষাতে। গত বছরের অক্টোবরে একটি প্রীতি ম্যাচে প্রথমার্ধে ০-২ গোলে পিছিয়ে থেকেও দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় জাপান। ওই ম্যাচে তাকুমি মিনামিনো, কেইতো নাকামুরা ও আয়াসে উয়েদা গোল করেন। ব্রাজিলের হয়ে গোল করেছিলেন পাওলো হেনরিক ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি।
এই জয়ের মাধ্যমে ব্রাজিলের বিপক্ষে দীর্ঘদিনের পরাজয়ের ধারা ভাঙে জাপান। এর আগে ২০১৩ সালের কনফেডারেশন্স কাপে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ব্রাজিল ৩-০ ব্যবধানে সহজ জয় পেয়েছিল এবং পরে তারা শিরোপাও জেতে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুই দলের দেখা হয়েছে মাত্র একবার—২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে। ওই ম্যাচে কেইজি তামাদা গোল করলেও রোনালদোর জোড়া গোল, জুনিনহো ও গিলবার্তোর গোলে ৪-১ ব্যবধানে জয় পায় ব্রাজিল।
ফুটবল ইতিহাসে ব্রাজিলের বিপক্ষে জাপানের রেকর্ড দুর্বল হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামুরাই ব্লু বড় বড় দলকে হারিয়ে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। জার্মানি, স্পেন ও ইংল্যান্ডের মতো দলকে হারানোর নজিরও রয়েছে তাদের।
অন্যদিকে, ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে জাপানের বিপক্ষে উজ্জ্বল ব্রাজিলের তারকারা। বিশেষ করে নেইমার এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে করেছেন সর্বোচ্চ ৯ গোল। এক ম্যাচেই তার চার গোলের পারফরম্যান্সও রয়েছে।
পরিসংখ্যান ও ইতিহাসে এগিয়ে থাকলেও শেষ সাক্ষাতের স্মৃতি ব্রাজিলকে সতর্ক রাখছে। তাই হিউস্টনের এই লড়াইয়ে অতীত নয়, মাঠের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে শেষ পর্যন্ত কারা এগিয়ে যাবে বিশ্বকাপের পরবর্তী পর্বে
