ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল আবেদন জমা দেওয়া শুরু হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাদ পড়া সম্ভাব্য প্রার্থীরা সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে স্থাপিত বিভিন্ন বুথে আপিল আবেদন জমা দেন।
আপিল গ্রহণের জন্য স্থাপিত বুথগুলো পরিদর্শন শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, সবার সহযোগিতা থাকলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করা সম্ভব। এখন পর্যন্ত নির্বাচন-পরিবেশ সন্তোষজনক রয়েছে।
বাছাইয়ে বাদ পড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাবুদ্দিন বলেন, লালমনিরহাট–১ আসনে কয়েকজন ভোটারের স্বাক্ষর অস্বীকার করায় তাঁর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। আপিলে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের উপস্থিত করার কথাও জানান।
নরসিংদী–৪ আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের সম্ভাব্য প্রার্থী কাজী শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় প্রতিপক্ষের বাধার মুখে পড়েন তিনি। পরবর্তীতে ভোটার স্বাক্ষর নিয়ে আপত্তি তোলা হলে তাঁর মনোনয়ন বাতিল হয়। এ বিষয়ে তিনি ইসিতে আপিল করেছেন এবং ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কিশোরগঞ্জ–১ আসনের প্রার্থী হেদায়েতুল্লাহ বলেন, হলফনামায় সামান্য ভুলের কারণে তাঁর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। আপিলে তিনি যুক্তিসংগত কারণ তুলে ধরবেন বলে জানান।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, এবারের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে মোট ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে এবং ১ হাজার ৮৪২টি মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাতিলের পাশাপাশি বৈধ ঘোষিত প্রার্থীদের বিরুদ্ধেও আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
ইসি আরও জানায়, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ প্রার্থী কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের পরবর্তী পাঁচ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ৯ জানুয়ারির মধ্যে আপিল করতে পারবেন। আপিল আবেদনের সঙ্গে এক সেট মূল কাগজপত্র ও ছয় সেট ছায়ালিপি জমা দিতে হবে।
আপিল গ্রহণের সুবিধার্থে দেশকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে নির্বাচন ভবনে আলাদা আলাদা বুথ স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে আপিল শুনানি শুরু হবে। আপিল নম্বর অনুযায়ী ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ধাপে ধাপে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
শুনানি শেষে আপিলের ফলাফল মনিটরে প্রদর্শন করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের ই-মেইলে রায়ের পিডিএফ কপি পাঠানো হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন ভবনের অভ্যর্থনা ডেস্ক থেকেও রায়ের অনুলিপি সংগ্রহ করা যাবে। পরিস্থিতি ও আপিলের সংখ্যা বিবেচনায় প্রয়োজনে সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
