ভোট গ্রহণের মাত্র একদিন আগে উচ্চ আদালতের রায়ে স্থগিত হয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। সোমবার হাইকোর্ট চার সপ্তাহের জন্য নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দিলে ভেঙে পড়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভ তৈরি হয় এবং ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা রিটকারী ও স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মো. মমিনুর রশীদ শুভকে শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। তবে জানা গেছে, শুধু মমিনুর রশীদ শুভই নন, রিটকারী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও দুই শিক্ষার্থী রয়েছেন।
রিটকারী তিন শিক্ষার্থী হলেন—
২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের পদার্থবিদ্যা বিভাগের ও শাহপরান হলের শিক্ষার্থী মো. মমিনুর রশীদ শুভ,
২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের গণিত বিভাগের ও সৈয়দ মুজতবা আলী হলের শিক্ষার্থী মো. রকিবুল হাসান রতন এবং
একই শিক্ষাবর্ষের সমাজকর্ম বিভাগের ও শাহপরান হলের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান হাসান।
আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জানুয়ারি এই তিন শিক্ষার্থী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ৮৫২ নম্বর একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। রিটে ১৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা–২ অধিশাখার উপ-সচিবের স্বাক্ষরে জারি করা একটি চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়।
উক্ত চিঠির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে শাবিপ্রবির রেজিস্ট্রারের কাছে শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
সোমবার রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ চার সপ্তাহের জন্য নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম ও ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসাইন লিপু। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
রিটকারীদের পক্ষের আইনজীবী মো. মোসলেম উদ্দিন জানান, নির্বাচন স্থগিত চেয়ে তিন শিক্ষার্থী রিট দায়ের করেছিলেন এবং আদালত চার সপ্তাহের জন্য স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।
এদিকে আকস্মিক এই স্থগিতাদেশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই দ্রুত নির্বাচন পুনরায় আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন।
