২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে বাংলাদেশ ত্যাগের পর নির্বাসনে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যভাবে বক্তব্য দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতে অনুষ্ঠিত এক প্রেস কনফারেন্সে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন এবং তাকে ‘খুনি ফ্যাসিস্ট’, ‘অবৈধ ও সহিংস শাসক’, ‘সুদখোর’, ‘অর্থ পাচারকারী’ ও ‘ক্ষমতার লোভী বিশ্বাসঘাতক’ বলে আখ্যা দেন।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র রক্ষা করুন’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে অডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তাকে ‘সূক্ষ্মভাবে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের’ মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশ একটি গভীর রাজনৈতিক সংকটে রয়েছে এবং দেশটি ‘অস্তিত্বগত লড়াইয়ের’ মুখোমুখি।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এখন একটি ‘বিশাল কারাগার ও মৃত্যু উপত্যকায়’ পরিণত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, মানবাধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নষ্ট হয়েছে এবং নারী ও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বাড়ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভেঙে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে লক্ষ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি বিদেশি স্বার্থের বিনিময়ে দেশের সার্বভৌমত্ব ও সম্পদ তুলে দিচ্ছেন এবং বাংলাদেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। তিনি এটিকে দেশের বিরুদ্ধে একটি ‘বিশ্বাসঘাতক চক্রান্ত’ বলেও উল্লেখ করেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
ধর্মীয় সংখ্যালঘু, নারী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা,
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আইন বাতিল করা,
বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা পুনর্গঠন,
জাতিসংঘের মাধ্যমে গত বছরের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত।
সমর্থকদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আপনাদের পাশে আছে। ঐক্যবদ্ধ হলে আমাদের দাবি আদায় সম্ভব।’
উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত বছরের ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড ও আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করে। এরপর থেকেই তিনি বিদেশে অবস্থান করে অনলাইনে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে আসছেন।
এদিকে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক নয় এবং অন্তর্বর্তী সরকার এমন তৎপরতা প্রত্যাশা করে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতে নির্বাসিত অবস্থান থেকেই শেখ হাসিনার এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে তিনি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চান।
