গত এক যুগ ধরে যেভাবে নির্যাতন করা হতো, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সামনে তারই মহড়া দেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। জাতিগত বিভাজন জিইয়ে রাখার অপচেষ্টা ও এনসিটিবির সামনে নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ মিছিলের আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন।হাসনাত বলেন, বাঙালি বাঙালি স্লোগান দিয়ে, বাঙালি ছাড়া অন্য জাতিসত্ত্বার লোকদের অস্বীকার করার চেষ্টা চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে থামিয়ে দেয়া হয়েছে। পরিচয় যাই হোক যারা হামলায় অংশগ্রহণ করেছে তাদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।জাতিগত সম্প্রীতিকে উপেক্ষা করে জাতিগত বিভাজনকে ব্যবহার করে দেশকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করে হাসনাত আরও বলেন, তারা চায় বিভাজন, আমরা থাকবো ঐক্যবদ্ধ। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে হবে।এ সময় জাতীয় নাগরিক কমিটির আহবায়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারি বলেন, বাহাত্তরের মুজিববাদী সংবিধান সরাতে না পারলে অন্যান্য জাতিসত্ত্বার মানুষের রক্ত ঝরতেই থাকবে। মুজিববাদী সংবিধানে পাহাড়ের ভাই-বোনদের স্থান দেয়া হয়নি। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যহত রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।বিদেশি কোনো চক্রান্তে পা না দেয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা লাশের রাজনীতি করতে চায়, তারা এই রাজনীতি থেকে সরে আসুন। পাহাড় ও সমতলের সবাইকে রাজপথে থেকে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে। যারা এসবের সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হোক।সমাবেশে আরও বক্তব্য রেখেছেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক হান্নান মাসুদ, জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা ও জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ আরও অনেকে।এর আগে দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সামনে আদিবাসী ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি নামক একটি প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে আসা লোকজন এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর, তারা হলেন: আদিবাসী যুব ফোরামের সহ-সভাপতি টনি ম্যাথিউ চিরান, সংঘাত ও বৈষম্যবিরোধী পাহাড়ি ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক (খাগড়াছড়ি) ফুটন্ত চাকমা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রূপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঘা। এ ছাড়া আহতদের সবাইকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তারা চায় বিভাজন, আমরা থাকবো ঐক্যবদ্ধ
সাবস্ক্রাইব
নিরাপদ নিউজ আইডি দিয়ে লগইন করুন
Please login to comment
0 Comments
সবচেয়ে পুরাতন
আরো দেখুন
