শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন এবং পুলিশ ৬ জনকে আটক করেছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) ভোররাতে উপজেলার রাজনগর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনগর জামেউল উলুম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্র ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল।
ঘটনার সূত্রপাত হয় রোববার বিকেলে। বিএনপির পক্ষে কাজ করা হাফিজ ভুঁইয়ার ছেলে সাব্বিরকে মারধরের অভিযোগ ওঠে জামায়াত-সমর্থক ছোরপান কাজীর ছেলে সোহেল কাজী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এর জেরে সোমবার ভোরে দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ছাড়াও অন্তত ২০টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হস্তক্ষেপ করে।
আহতদের জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, নির্বাচনে পক্ষ নেওয়ার কারণে তাদের টার্গেট করে হামলা চালানো হয়েছে। গৃহবধূ সারিকা বেগম অভিযোগ করেন, বিএনপির পক্ষে কাজ করায় তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে। একই অভিযোগ করেন আরেক ভুক্তভোগী চন্দ্রবান বেগম।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত পক্ষ। স্থানীয় বাসিন্দা ও সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য হাসিনা আক্তার বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। অপরদিকে সোহেল কাজীর পরিবারের সদস্য শারমিন বেগম দাবি করেন, প্রতিপক্ষই আগে থেকে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আসছে।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া জানান, নির্বাচন পরবর্তী বিরোধের জেরেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এ ঘটনায় ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান
