আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সগুলো পুনরায় যাচাই–বাছাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা অপব্যবহার থাকলে তা বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়–এ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আমলে কারা লাইসেন্স পেয়েছেন, তা যথাযথ নিয়ম মেনে দেওয়া হয়েছিল কি না এবং লাইসেন্সধারীরা প্রকৃতপক্ষে যোগ্য কি না—আইন অনুযায়ী সবকিছু যাচাই করা হবে। যাচাই শেষে যোগ্যদের লাইসেন্স বহাল থাকবে, আর অনিয়ম, জালিয়াতি বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স বাতিল করে অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হবে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনের আগে বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও ১০ হাজারের বেশি অস্ত্র জমা পড়েনি। এসব অস্ত্র এখন আইনগতভাবে ‘অবৈধ’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সেগুলো উদ্ধারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে মামলা করা হবে।
বর্তমানে দেশে কতটি লাইসেন্স ও লাইসেন্সধারী অস্ত্র রয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান প্রস্তুত করতে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীতে জনবলসংকট রয়েছে। বর্তমানে দুই হাজার ৭০১ জন কনস্টেবলের পদ শূন্য রয়েছে এবং দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
পাসপোর্ট সেবার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ই-পাসপোর্ট চালুর পর অভিযোগ কমেছে। তবে অনেকেই অনলাইনে আবেদন করতে না পারায় অন্যের সহায়তা নিতে হচ্ছে, যার ফলে মধ্যস্বত্বভোগী চক্র তৈরি হয়েছে। কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে ভোগান্তির অভিযোগও রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে বৈধ এজেন্ট নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথমে ঢাকা ও বিভাগীয় শহরে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে সফল হলে সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান তিনি। সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও সেবাখাতে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
