মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৩
No menu items!
বাড়িজাতীয়৯ মাসে সংবিধান উপহার দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু : প্রধানমন্ত্রী

৯ মাসে সংবিধান উপহার দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু : প্রধানমন্ত্রী

মাত্র ৯ মাসে বঙ্গবন্ধু সংবিধান উপহার দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানুষের জন্য কাজ করতেন বলেই শাসকরা বারবার তাকে জেলে পাঠিয়েছে।”

মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) বিকালে বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে একটা টাকা রিজার্ভ ছিল না, সব নিয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানিরা। কারেন্সিগুলো পুড়িয়ে দিয়ে যায়। যুদ্ধকালীন কেউ চাষাবাদ করতে পারেনি। তেমন একটা বিধ্বস্ত দেশের তিনি (বঙ্গবন্ধু) দায়িত্ব নেন।”

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ভারত সরকার, সেই দেশের জনগণ আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিভিন্ন দেশের কোনো কোনো সরকার সমর্থন না দিলেও তাদের জনগণ আমাদের সমর্থন দিয়েছিলেন। আমেরিকা সরকার পাকিস্তানিদের সহযোগিতা করলেও আমেরিকার জনগণ আমাদের পাশে ছিলেন। আমাদের সহযোগিতা করেছিলেন।”

তিনি বলেন, “যারা মুক্তিযুদ্ধে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছিলেন, খাদ্য দিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং দিয়েছেন, অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন যাদের সৈনিকরা আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অকাতরে জীবন দিয়েছেন, সেই ভারত এবং অন্যান্য সহযোগী দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”

সরকার প্রধান বলেন, “১৯৭৫ এর পরে যারা ক্ষমতা এসেছিলেন তারা কখনো চায়নি বাংলাদেশ সারা বিশ্বের কাছে একটা মর্যাদা নিয়ে চলুক। তাদের লক্ষ্য ছিল, বাংলাদেশ একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে ঘোষিত হয়। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়টা যেন অর্থহীন হয়ে পড়ে। এই দেশটা যেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে সম্পূর্ণ বিমুখে চলে যায়।”

শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ ক্ষমতা আসার পরই এদেশের মানুষ যে জিনিসটা উপলব্ধি করতে পেরেছে যে, সরকার জনগণের সেবক। একটা সরকার ইচ্ছে করলে মানুষের যে উন্নতি করতে পারে সেটা আওয়ামী লীগ সরকারই প্রমাণ করেছে।”

ক্ষমতা আসা সহজ ছিল না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এতো সহজে আসতে দেয়নি। জনগণ আমাদের সমর্থন করে, ভোট আমাদের আছে। কিন্তু নির্বাচন বারবার কারচুপি করে হোক, ষড়যন্ত্র করে হোক, চক্রান্ত করে হোক, বারবার আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে। মানুষের শক্তি হচ্ছে বড় শক্তি। আর একটা বিশ্বাস, ওপরে রাব্বুর আল-আমিন তো আছেনই। আল্লাহ দয়া আর মানুষের শক্তি নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারে এসেছে।”

তিনি বলেন, “ভাষা আন্দোলনের পর থেকে বঙ্গবন্ধুকে বারবার কারাবরণ করতে হয়। বঙ্গবন্ধু যেখানেই গেছেন, সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ব্যর্থ করতে চেয়েছিল, আজ তারাই ব্যর্থ। আজকে বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে সারা বিশ্বে যে মর্যাদা পেয়েছে, এই মর্যাদা ধরে রেখে আমরা দেশকে সামনে এগিয়ে নেব।”

তিনি আরও বলেন, “জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস এগুলোর হাত থেকে দেশকে মুক্ত রেখে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব। জাতির পিতার এই প্রত্যাবর্তন দিবসে এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা যে, এই জাতি বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলবে। আমাদের একটাই চিন্তা যে জাতির জন্য আমাদের মহান নেতা জীবন দিয়ে গেছেন, সেই জাতির কল্যাণ করা, তাদের জীবন সুন্দর করা। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমি কাজ করে যাচ্ছি।”

এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, এস এম কামাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সাবস্ক্রাইব
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
আরো দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ