জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই পরিত্যক্ত পলিথিন থেকে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন তৈরির অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন নওগাঁর এক তরুণ শিক্ষার্থী। তার তৈরি জ্বালানি ব্যবহার করে মোটরসাইকেল চালানো থেকে শুরু করে জমিতে সেচকাজও চলছে—যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের হরিরামপুর খামার পাড়া গ্রামের বাসিন্দা মিনহাজুল ইসলাম আশিক। তিনি স্থানীয় হরিরামপুর বাহারুল উলুম ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। গত দুই থেকে আড়াই বছর ধরে ইউটিউব দেখে ও নিজের প্রচেষ্টায় পলিথিন থেকে জ্বালানি তৈরির পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে আসছেন তিনি।
আশিক জানান, সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটে তেল কিনতে না পেরে তিনি নতুন করে এই উদ্যোগ নেন। তার ব্যবহৃত পদ্ধতিতে পরিত্যক্ত পলিথিন একটি ড্রামে ভরে মুখ বন্ধ করে আগুনে উত্তপ্ত করা হয়। এতে সৃষ্ট বাষ্প প্লাস্টিকের নলের মাধ্যমে ঠান্ডা করে ধাপে ধাপে তরল জ্বালানি হিসেবে সংগ্রহ করা হয়। তার দাবি, এই প্রক্রিয়ায় পর্যায়ক্রমে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন পাওয়া সম্ভব।
তিনি আরও জানান, নিজের মোটরসাইকেলে এই তেল ব্যবহার করছেন তিনি। পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকেরা সেচকাজে শ্যালো মেশিনেও তা ব্যবহার করে উপকার পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মধ্যে আশিকের এই উদ্ভাবন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ তার কাজ দেখতে আসছেন এবং অনেকে পরীক্ষামূলকভাবে এই তেল ব্যবহার করছেন।
তবে আশিক স্বীকার করেছেন, এখনও পুরো প্রক্রিয়াটি নিখুঁত নয়। তিনি বলেন, “তেল পরিশোধনের সঠিক পদ্ধতি জানা না থাকায় পুরোপুরি পরিষ্কার জ্বালানি তৈরি করতে পারছি না। সরকারি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ পেলে আরও উন্নত মানের জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব।”
তিনি মনে করেন, পলিথিন থেকে জ্বালানি উৎপাদন বাণিজ্যিকভাবে সফল হলে একদিকে পরিবেশ দূষণ কমবে, অন্যদিকে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে খাজুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন বলেন, “আশিকের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। তেলের চূড়ান্ত পরিশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারলে এটি বড় আকারে ব্যবহারযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। আশা করি, সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ তার পাশে দাঁড়াবে।”
