দেশজ ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় সৃজনশীলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত গড়ে উঠেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেংরা গ্রামে অবস্থিত মা ও শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র ‘শিশুপল্লী প্লাস’-এ। পয়লা বৈশাখকে সামনে রেখে কেন্দ্রজুড়ে এখন বর্ণিল প্রস্তুতির আমেজ।
বাঙালির প্রাণের এই উৎসব উপলক্ষে কেন্দ্রটির মা ও শিশুরা ব্যস্ত সময় পার করছেন নানা বৈশাখী মোটিভ তৈরিতে। ব্রিটিশ নাগরিক পেট্রিসিয়া অ্যান ভিভিয়ানা কার প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রে আশ্রিত মায়েরা নিপুণ হাতে তৈরি করছেন রয়েল বেঙ্গল টাইগার, লোকজ পাখি, রঙিন ঘুড়ি, মাছ, প্যাঁচা ও ময়ূরসহ বিভিন্ন প্রতীকী মোটিভ।
মায়েদের এমন সৃজনশীল কাজে পাশে থেকে আগ্রহভরে অংশ নিচ্ছে শিশুরাও। কেউ দেখছে, কেউবা রঙতুলির আঁচড়ে নিজেদের কাঁচা হাতে ফুটিয়ে তুলছে সৃজনশীলতা। কেন্দ্রের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির প্রায় ৭০ জন শিশু এই আয়োজনে অংশ নিচ্ছে। পুরো কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রতিষ্ঠানের ক্রিয়েটিভ আর্ট ডিরেক্টর মিলন রব।
অংশগ্রহণকারী সিতা হাজদা জানান, কাজের ফাঁকে তিনি তার সন্তান সুব্রত সরেনকেও এসব শেখাচ্ছেন। উচ্ছ্বসিত সুব্রত বলে, “বৈশাখে আমরা অনেক আনন্দ করব। এগুলো নিয়ে র্যালিতে যাব। আগামী বছর আমি নিজেই বানাতে পারব।”
আরেক অংশগ্রহণকারী শাহানা বেগম বলেন, “মিলন রবের কাছ থেকে আমরা এসব কাজ শিখেছি। এখন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে খুব ভালো লাগে। বছরে এই একটি দিন আমরা দারুণ আনন্দ করি।”
বৈশাখবরণ উপলক্ষে ‘শিশুপল্লী প্লাস’ নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। উৎসবের দিন সূর্যোদয়ের পর বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে আয়োজন শুরু হবে। পরে পরিবেশন করা হবে ঐতিহ্যবাহী পান্তা-রুই মাছের নাশতা। সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে মূল অনুষ্ঠান, যেখানে শিশুরা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করবে। দুপুরের পর থাকবে আশপাশের মেলা ঘুরে দেখার সুযোগ।
ক্রিয়েটিভ আর্ট ডিরেক্টর মিলন রব বলেন, “এখানে প্রতিটি শিশু বাংলাদেশের একেকটি কোমল রূপ নিয়ে বড় হচ্ছে। এ ধরনের আয়োজন তাদের দেশজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়।”
উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘শিশুপল্লী প্লাস’ দীর্ঘদিন ধরে দুস্থ মা ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পুনর্বাসনে কাজ করছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৬৫০ জন মা ও শিশু রয়েছে। পাশাপাশি মায়েদেরও বিভিন্ন কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলা হচ্ছে।
