মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নতুন করে চরম আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেবাননে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে একদিনেই অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বৈরুতসহ বিভিন্ন স্থানে চালানো এই হামলাকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় আঘাতগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। লেবাননের দাবি, মাত্র ১০ মিনিটেরও কম সময়ে প্রায় ১০০টি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে, যা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানির কারণ হয়েছে।
হামলায় বিপুল সংখ্যক বেসামরিক নাগরিক হতাহতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সংগঠনটি এই হামলাকে ‘গুরুতর যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছে, নিরীহ মানুষের ওপর এমন হামলা তাদের প্রতিরোধকে আরও জোরদার করবে।
অন্যদিকে, ইরানও এই পরিস্থিতিতে কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। দেশটির কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করেছে। তাদের দাবি, এই চুক্তির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তা অস্বীকার করেছে।
এদিকে হোয়াইট হাউস ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি মূলত উত্তেজনা প্রশমনের একটি তাৎক্ষণিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। চুক্তিতে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ বন্ধ রাখা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা থেকে বিরত থাকা এবং হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।তবে যুদ্ধবিরতির শর্ত ব্যাখ্যা নিয়ে শুরু থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। সেই বিভেদের মধ্যেই লেবাননে এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটায় চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরপরই এমন সহিংসতা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বৃহৎ সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।
