মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে চলমান সংঘাতের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ‘স্মার্ট লকডাউন’ জারির পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে পাকিস্তান সরকার। প্রধান অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষে যে কোনো সময় এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে।
রোববার (২৯ মার্চ) সরকারি সূত্রের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশজুড়ে বাজার ও শপিংমল রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে সর্বোচ্চ ২০০ জন অতিথির সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠান রাত ১০টার মধ্যে শেষ করতে হবে এবং এক পদের খাবার পরিবেশনের নির্দেশনা থাকবে। এর মাধ্যমে বড় জমায়েত নিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যুৎ খরচ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি অফিসগুলোতে চালু করা হবে হাইব্রিড কর্মপদ্ধতি। সপ্তাহের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তিন দিন সরাসরি অফিস এবং দুই দিন বাসা থেকে কাজ করতে হবে। পরিষেবা খাতের অফিসগুলো চার দিন সরাসরি এবং দুই দিন অনলাইনে পরিচালিত হবে। উপস্থিতি ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং ৫০ শতাংশ রোটা পদ্ধতিও কার্যকর করা হবে। বেসরকারি অফিসগুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা বিবেচনায় রয়েছে।
সরকারি যানবাহন ব্যবহারে আরোপ করা হবে কঠোর বিধিনিষেধ। নিয়ম লঙ্ঘন করলে জ্বালানি বা যানবাহন বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য সম্মিলিত পরিবহন ব্যবস্থার কথাও ভাবা হচ্ছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি অফিসে সকাল সাড়ে ১০টার আগে এয়ার কন্ডিশনার (এসি) ব্যবহার নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সরকারি খাতের অন্তত ৫০ শতাংশ ভবন সৌরশক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক সমন্বয়ের অংশ হিসেবে কর্মচারীদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ভাতা কমানো, সম্পত্তি ও যানবাহন লেনদেনে কর পরিবর্তন, টোল ট্যাক্স বৃদ্ধি এবং গণপরিবহনের ভাড়া কমিয়ে ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় পাকিস্তানে জ্বালানি খাতে চাপ বেড়েছে। চলতি মাসের শুরুতে দেশটিতে পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ৩২১ রুপি এবং ডিজেলের দাম ৩৩৫ রুপির বেশি হয়েছে। বৈদেশিক তেলের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে এ মূল্যবৃদ্ধি দেশের রিজার্ভ ও চলতি হিসাবে চাপ সৃষ্টি করছে।
এর আগে, গত ২৪ নভেম্বর সিন্ধু প্রদেশের স্থানীয় সরকারমন্ত্রী নাসির হুসেন জানিয়েছিলেন, বৈশ্বিক তেল সংকটের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সাশ্রয়ে ‘স্মার্ট লকডাউন’ বিবেচনা করছে সরকার। ইতোমধ্যে প্রাদেশিক পর্যায়ে সরকারি যানবাহনের জ্বালানি ভাতা ৬০ শতাংশ কমানো হয়েছে। এছাড়া মার্চ মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে অনলাইন ক্লাস চালুর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
