জর্ডানে ইরান ও তাদের মিত্রবাহিনীর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন সেনাসদস্য নিখোঁজ এবং চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার (১৯ জুলাই) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। গত মার্চের পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চলমান উত্তেজনার মধ্যে এটিই প্রথম মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা। একই সময়ে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
সেন্টকম জানায়, ১৭ জুলাই জর্ডানে ইরান ও তাদের মিত্রবাহিনীর হামলা প্রতিহত করার সময় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন এবং একজন নিখোঁজ হন। আহত চার সেনাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সামান্য আহত আরও কয়েকজন চিকিৎসা শেষে দায়িত্বে ফিরেছেন। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ।
এর আগে বৃহস্পতিবার ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করে, তারা জর্ডানের আজরাক বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা ও জ্বালানি সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পেন্টাগন বা সেন্টকম কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে ইরান আরও বিস্তৃত পরিসরে পাল্টা জবাব দেবে। একই সঙ্গে ইরানের সেনাবাহিনী ভারত মহাসাগরে একটি মার্কিন জাহাজে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলারও দাবি করেছে।
তেহরানের অভিযোগ, গত ৭ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও এরপরও যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালিয়েছে। ইরানের ভাষ্য, এসব হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক যৌথ সামরিক অভিযানের অংশ। এছাড়া গত মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের অন্যতম শর্ত ছিল সব ধরনের সামরিক আগ্রাসন বন্ধ রাখা, কিন্তু বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি বলে দাবি করেছে তেহরান।
