যুক্তরাষ্ট্র ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘের ৩১টি সংস্থা ও কর্মসূচি এবং জাতিসংঘের বাইরে থাকা আরও ৩৫টি আন্তর্জাতিক সংগঠন। খবর আলজাজিরা।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসের এক ঘোষণায় জানানো হয়, যেসব সংস্থা জলবায়ু পরিবর্তন, শ্রম, অভিবাসন, লিঙ্গসমতা, বৈচিত্র্য ও তথাকথিত ‘ওয়োক’ কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেয়— সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী বলে মনে করছে প্রশাসন। এ কারণেই এসব সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।
জাতিসংঘের যেসব সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে যাচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে ইউএনএফসিসিসি (জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন), ইউএন উইমেন, ইউএন পপুলেশন ফান্ড, ইউএন ডেমোক্রেসি ফান্ড, ইউএন কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ইউএন এনার্জি, ইউএন ওয়াটার, ইউএন ইউনিভার্সিটি, ইউএন হ্যাবিট্যাট ও ইউএন ওশানসসহ জলবায়ু, মানবাধিকার, লিঙ্গসমতা ও উন্নয়নবিষয়ক বহু সংস্থা।
এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট দপ্তর, শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিশন ও তহবিল, আফ্রিকাবিষয়ক বিশেষ দপ্তর এবং শিশু ও নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো থেকেও যুক্তরাষ্ট্র সরে যাচ্ছে।
জাতিসংঘের বাইরে থাকা ৩৫টি সংগঠনের মধ্যে রয়েছে ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি), ইন্টারন্যাশনাল রিনিউএবল এনার্জি এজেন্সি, ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন), গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এবং ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেক্টোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স।
উল্লেখ্য, জানুয়ারি ২০২৫ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম সিদ্ধান্তগুলোর একটি ছিল প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করা। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে। নতুন স্মারকে ১৯৯২ সালের ইউএনএফসিসিসি চুক্তি থেকেও বেরিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর সদস্যপদ বজায় রাখবে বলে জানানো হয়েছে। এগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও মানবিক স্বার্থের জন্য অপরিহার্য বলে মনে করছে প্রশাসন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে বৈশ্বিক জলবায়ু কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা
