যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আদালতের নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই ঘটনায় অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়াহ অপরাধ সংঘটনের আগে একটি এআই চ্যাটবট—চ্যাটজিপিটি—ব্যবহার করেছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বিষয়টি ঘিরে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধেও তদন্তের কথা জানিয়েছেন ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলমান ফৌজদারি তদন্তে ওপেনএআই-কে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে অ্যাটর্নি জেনারেল উথমিয়ার বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে প্রযুক্তির কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, নিহতদের নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন আগ থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তি চ্যাটজিপিটির কাছে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকেন। এর মধ্যে ছিল লাশ গুম করা, গাড়ির ভিআইএন নম্বর পরিবর্তন, লাইসেন্স ছাড়া অস্ত্র রাখা এবং নির্দিষ্ট এলাকায় গাড়ি তল্লাশি হয় কি না—এসব বিষয়ে অনুসন্ধান।
বিশেষ করে ১৩ এপ্রিল তিনি জানতে চান, কাউকে কালো আবর্জনার ব্যাগে ভরে ফেলে দিলে কী হতে পারে। পরে আরও প্রশ্ন করেন, এমন ঘটনা কীভাবে শনাক্ত করা হয়। ১৫ এপ্রিল তিনি যানবাহন শনাক্তকরণ নম্বর (VIN) পরিবর্তন এবং অস্ত্র সংক্রান্ত তথ্য জানতে চান। আর ১৭ এপ্রিল মধ্যরাতে তিনি হিলসবোরো রিভার স্টেট পার্ক এলাকায় গাড়ি পরীক্ষা করা হয় কি না—এমন প্রশ্ন করেন।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ওই রাতেই জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধারের স্থানের কাছাকাছি অভিযুক্তের মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিস এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তারা জানিয়েছে, ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘারবিয়াহর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে, নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ এখনও উদ্ধার হয়নি। টাম্পা বে এলাকার একটি জলাশয়ে পাওয়া দেহাবশেষ তার হতে পারে বলে ধারণা করা হলেও, এখনো তা নিশ্চিত করা যায়নি। পিনেলাস কাউন্টিতে উদ্ধার হওয়া এসব দেহাবশেষের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে।কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইন্টারস্টেট ২৭৫ এবং ফোর্থ স্ট্রিট নর্থ এলাকায়, হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ সংলগ্ন সেন্ট পিটার্সবার্গ অঞ্চলে দেহাবশেষগুলো পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
